নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস তালাবদ্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। প্রতিদিন শত শত মানুষ বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ- নতুন সংযোগ, বিল সংশোধন, লাইন বা ট্রান্সফরমার সমস্যার সমাধান নিয়ে অফিসে এলেও তালাবদ্ধ অবস্থায় ফিরে যেতে হচ্ছে।
কেন্দুয়া জোনাল অফিস হলো নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এর একটি অংশ, যা কেন্দুয়া উপজেলায় অবস্থিত এবং এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সেবা প্রদান করে থাকে। এটি নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে থাকা বিভিন্ন উপজেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে একটি।
জানা গেছে, কেন্দুয়া জোনাল অফিসের আওতায় পুরো কেন্দুয়া উপজেলা ও পাশের আটপাড়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় আড়াই লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবা নিয়ে থাকেন। এই বিশাল গ্রাহকগোষ্ঠীর বিদ্যুৎ সংযোগ, বিল ও বিভিন্ন কারিগরি সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব পালন করে থাকে এ অফিস।
অফিস বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম জানান, দোকানের জন্য নতুন সংযোগ নেওয়ার আবেদন করেছিলাম। এখন অফিস বন্ধ থাকায় কাজ আটকে আছে। ব্যবসা শুরু করতেই পারছি না।
কেন্দুয়ার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ে বিদ্যুতের ভোল্টেজ সমস্যা দীর্ঘদিনের। সমাধানের জন্য অফিসে যোগাযোগ করতে এসে দেখি তালা ঝুলছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
অফিসের সামনে আসা সাধারণ গ্রাহক সোহেল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিটার সমস্যা সমাধানের জন্য সকাল থেকে এসেছি, কিন্তু অফিস বন্ধ। বিদ্যুতের মতো জরুরি সেবায় এভাবে তালা ঝুলে থাকবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কেন্দুয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. ওমর কাইয়ুম বলেন, অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাগণ ছুটিতে রয়েছেন। তবে গ্রাহকদের জরুরি সেবার জন্য কিছু সংখ্যক কর্মী বিভিন্ন সাবস্টেশনে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই অফিসের নিয়মিত কার্যক্রম চালু হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বিদ্যুৎ মানুষের নিত্যদিনের অপরিহার্য সেবা। তাই হঠাৎ অফিস বন্ধ রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত সমাধান না হলে জনগণের ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

