বিজ্ঞাপন

পাকুন্দিয়ায় মাদরাসার জমি থেকে ফলজ-বনজ গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বরাটি আলিম মাদরাসার ওয়াকফকৃত জমি থেকে জোরপূর্বক ফলজ-বনজ গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে মাদরাসার জমিদাতা ও সাবেক সুপারিনটেনডেন্ট রইছ উদ্দিনের তিন ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মাদরাসার বর্তমান অধ্যক্ষ আছআদ উল্লাহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিজ্ঞাপন


অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলা বরাটিয়া এলাকার মাওলানা রইছ উদ্দিনের ছেলে ডা. শফিকুল ইসলাম সাদ্দাম, শরিফ মিয়া ও ফারুক মিয়া।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সরেজমিনে মাদরাসা ঘুরে দেখা যায়, মাদরাসার মাঠের পাশে প্রায় ১৩টি ফলজ ও বনজ গাছসহ মোট ২০টি গাছ গোড়া থেকে কেটে বিক্রি করেছে অভিযুক্তরা। গাছগুলোর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকার বেশি হবে।
মাদরাসার দলিল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে পাকুন্দিয়ার প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মাওলানা রইছ উদ্দিন বরাটিয়া আলিম মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৮৬ সালে উপজেলার বরাটিয়া মৌজায় ৩২ নং খতিয়ানভুক্ত সাবেক ২১৮ দাগে ৩১ শতাংশ, ৪৪৩ দাগে ২৭ শতাংশ, ৪৪৪ দাগে ৩ শতাংশ, ৪৪৫ দাগে ২০ শতাংশ ও ১৯৯ দাগে ১৯ শতাংশসহ মোট ১০০ শতাংশ জায়গা বরাটি আলিম মাদরাসার নামে হেবা দলিল মূলে দান করেন। ওই সময় মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট থাকাকালীন তিনি মাদরাসার চতুর্পাশ্বে ৩০-৩৫টি ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করলে বর্তমান অধ্যক্ষ আছআদ উল্লাহ ১৯৯৬ সালে মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গাছগুলো পরিচর্যা করে আসছিলেন।


কিন্তু গত, ২১ জানুয়ারি মাদরাসার গাছগুলো রইছ উদ্দিনের তিন ছেলে একত্রিত হয়ে তাদের বাবার পৈত্রিক সম্পদ দাবি করে জোরপূর্বক কেটে বাজারে বিক্রি করে দেয়। প্রতিবাদ করলে তারা মাদরাসার জায়গায় পুকুর খননের হুমকি দেয় বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছে।
মাদরাসার বর্তমান অধ্যক্ষ আছআদ উল্লাহ বলেন, মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা রইছ উদ্দিন মাদরাসার জন্য একশ শতাংশ জমি হেবা দলিলের মাধ্যমে দান করে গেছেন। বর্তমানে তার এক ছেলে ডা. শফিকুল ইসলাম সাদ্দাম মাদরাসার কমিটির সভাপতি হতে চাচ্ছিল। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী সে সভাপতি হতে না পেরে প্রতিহিংসায় মাদরাসার জমি থেকে গাছ কাটে বাজারে বিক্রি করে মাদরাসার খেলার মাঠে পুকুর খননের উদ্যোগ নেয়। প্রশাসন ও স্থানীয়দের বাধার মুখে পুকুর খননে সফল হতে না পেরে মাদরাসার গাছগুলো কেটে এই ক্ষতি করেছে।


বরাটিয়া গ্রামের হারুন মিয়া বলেন, মাদরাসার অনেকগুলো সরকারি গাছ সাদ্দাম, ফারুক, শরিফ নিজের বাবার দাবি করে জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যায়। কর্তৃপক্ষের কোনো রকম বাধা তারা মানেনি। এই গাছগুলোর ছায়াতে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করত। গাছগুলো কাটায় এখন মাদরাসায় কোনো ছায়া নেই, শুধু রৌদ। এছাড়া মাদরাসার আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মো. আবু হুসাইন বলে, গাছ কাটার সময় আমাদের শিক্ষকগণ বাধা দিয়েছে। কিন্তু তারা জোরপূর্বক গাছগুলো কেটেছে এবং অধ্যক্ষ স্যারের ওপর হামলা চালাতে উদ্যত হতে দেখেছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা এই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন। তিনি মাদরাসার জন্য একশ শতাংশ জায়গা দান করেছেন। বাবার ইন্তেকালের সময় আমরা ছোট ছিলাম। সেই সুযোগে আমার চাচাতো ভাই বর্তমান মাদরাসার অধ্যক্ষ আছআদ উল্লাহ আমাদের জমিজমা মাদরাসার নামে দখল করে ভোগ করে আসছে এবং আমাদের ব্যক্তিগত জমিতে মাদরাসার বিল্ডিং নির্মাণ করেছে। আমরা মাদরাসার কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের জমি ফেরত চাইলে বর্তমান ৬২৬ নং দাগের সাথে আমাদের ৬২১ নং দাগের জমির এওয়াজ বদল হয়। এওয়াজ বদল রেজিষ্ট্রির পর আমরা নিজেদের জমি থেকে কয়েকটি গাছ কেটে জায়গাতে মাটি ফেলার ব্যবস্থা করলে তিনি হঠাৎ আমিসহ আমার ভাইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তখন ইউএনও, সেনাবাহিনী ও ওসি ঘটনাস্থলে এসে আমাকে গাছ কাটতে অনুমতি দিয়েছেন।


এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে অধ্যক্ষ বা মাদরাসা কমিটির পক্ষ থেকে কেউ আমার কাছে আসেনি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমি অবগত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে অধ্যক্ষকে মোবাইলে কল দিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেছি। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পড়ুন- ত্রিশালে বাবার হাতে তিন বছরের শিশু খুন, সৎ মা-সহ বাবা গ্রেফতার

দেখুন- ইরান যু/দ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল বিরোধ!

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন