পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত প্রতিষ্ঠান ও আইনসমূহকে ‘লিঙ্গ সংবেদনশীল’ করার লক্ষ্যে রাঙামাটিতে পরামর্শ সভা ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে রাঙামাটি জেলা শহরের আশিকা হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা থেকে এ তথ্য উঠে আসে, ২০১৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩ সার্কেল (চাকমা, মং ও বোমাং) মিলিয়ে নারী হেডম্যানের সংখ্যা ছিল ১১ জন। ২০২৫ সালে এসে সে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জন। ২০১৩ সালে মাত্র ৫ জন নারী কারবারি ছিলেন, ২০২৫ সালে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫০ জন। তবে নারীর প্রতি সহিংসতা একটি নীরব সংকট; কিন্তু এ সংকট নিয়ে আলোচনা খুবই কম হয় বলে অভিযোগ।
বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের উদ্যোগে এবং স্থানীয় এনজিও সংস্থা প্রোগ্রেসিভ, খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি ও অনন্যা কল্যাণ সংগঠনের আয়োজনে সভায় “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত আইনসমূহকে জেন্ডার সংবেদনশীল করার জন্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং সার্কেল চিফদের সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের সংলাপ” শীর্ষক এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায় সভাপতির বক্তব্যে নারী অধিকার নিশ্চিত করতে এবং নারী নেতৃত্বকে এগিয়ে নিতে প্রথাগত নেতৃত্বকে আরও স্বউদ্যোগী ও সংবেদনশীল হয়ে উঠার আহবান জানান। পাপাপাশি বিবাহ নথিভুক্তকরণেও তাদের উদ্যোগী ভূমিকার প্রত্যাশার কথা জানান। অনুষ্ঠানে সিএইচটি উইমেন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের সভাপতি টুকু তালুকদারের সঞ্চালনায় বিশেষ ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য চঞ্চু চাকমা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য ও সিএইচটি উইমেন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ নিরূপা দেওয়ান ও অ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা প্রমুখ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সহকারী সমন্বয়কারী নিবেদিতা বর্মা শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সমন্বয়কারী সঞ্জয় মজুমদার। শেষে প্রোগ্রেসিভের মুখ্য নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমা আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
পড়ুন- বিশ্ব উরস শরীফ উপলক্ষে পিরোজপুরে জাকের পার্টির আঞ্চলিক মিশন সভা


