২০/০২/২০২৬, ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ
21 C
Dhaka
২০/০২/২০২৬, ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নতুন কমিটির নেতৃত্বে রুমেন, সুপ্রিয় ও সৈসানু

‘সকল প্রকার বিভেদ ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করুন; পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনে জুম্ম ছাত্র সমাজ অধিকতর সামিল হউন’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙামাটিতে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) কাউন্সিল ও প্রতিনিধি সম্মেলন শেষ হয়েছে। বুধবার (২১ মে) রাঙামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দিনব্যাপী পিসিপির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও প্রতিনিধি সম্মেলন- ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়।

কাউন্সিলে রুমেন চাকমাকে সভাপতি, সুপ্রিয় তঞ্চঙ্গ্যাকে সাধারণ সম্পাদক এবং সৈসানু মারমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান বিদায়ী কমিটির সহ-সভাপতি খোকন চাকমা। কাউন্সিলে তিন পার্বত্য জেলা, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয়, থানা, কলেজ, শহর, ইউনিয়ন কমিটি থেকে প্রায় ৩ শতাধিক প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণ করে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন


বুধবার রাতে নতুন কমিটির তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অন্বেষ চাকমার সই করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে পিসিপি’র বিদায়ী কমিটির অর্থ সম্পাদক টিকেল চাকমার সভাপতিত্বে এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক জিকো চাকমার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার। প্রথমে অধিবেশনে আর্ন্তজাতিক, জাতীয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সাংগঠনিক অবস্থা ও আর্থিক প্রতিবেদন সম্বলিত সামগ্রিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুমেন চাকমা।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঊষাতন তালুকদার বলেন, সমাজ পরিবর্তন ও অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে ছাত্র সমাজের ভূমিকা অগ্রভাগে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আদায়ের আন্দোলনেও সেই শিক্ষিত সমাজ এগিয়ে এসে জুম্ম জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে ছাত্র সমাজ একটা ভাসমান শ্রেণি। এই শ্রেণি থেকে জুম্মদের আন্দোলনে সুবিধাবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী উত্থানের ইতিহাসও আছে। আমাদের আন্দোলন হচ্ছে জাতীয় মুক্তির আন্দোলন। এই আন্দোলনে জুম্মদের মধ্যে সকল শ্রেণির ভূমিকা থাকা উচিত। পার্টির আন্দোলনের নীতি-কৌশল বুঝতে না পেরে, উপলব্ধি করতে না পেরে পার্টির বিরোধী শাসকগোষ্ঠীর মদদে অনেক প্রতিক্রিয়াশীল বিভেদপন্থী গোষ্ঠী আমাদের আন্দোলনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনটাকে এগিয়ে নিতে পারতো। কিন্তু বিভেদপন্থীরা জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের পথে এগিয়ে আসেনি।


দ্বিতীয় অধিবেশনে পিসিপি’র বিদায়ী কমিটির সভাপতি নিপন ত্রিপুরার সভাপতিত্বে এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক জগদীশ চাকমার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক জুয়েল চাকমা। অধিবেশনে বিদায়ী কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সতেজ চাকমা। দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরুতে বিদায়ী কমিটির পক্ষ থেকে ১৩ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন বিদায়ী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুপ্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা এবং সেই প্রস্তাবনা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও প্রতিনিধি সম্মেলনের অধিবেশনে পিসিপির বিদায়ী কমিটির সহ-সভাপতি খোকন চাকমা কমিটির ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট ২৯তম কেন্দ্রীয় কমিটি প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবিত কমিটিকে উপস্থিত প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকবৃন্দ সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত করে মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান। পরবর্তীতে দ্বিতীয় অধিবেশনের সভাপতি ও বিদায়ী ২৮তম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিপন ত্রিপুরা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, কাউন্সিল ও প্রতিনিধি সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।

পড়ুন : অবশেষে রাঙামাটিতে ভেঙে ফেলা হল শেখ মুজিবের ভাস্কর্য

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন