সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি পিরোজপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বুধবার (০৩ আগষ্ট) রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
একইদিন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জেলা ছাত্রদলের কমিটির কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১১ বছর পর সম্প্রতি পিরোজপুর সদর উপজেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এ কাউন্সিলে ভোট গণনার সময় হঠাৎ বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে গণনা স্থগিত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, একটি পক্ষ গোলযোগ সৃষ্টি করলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন, তাদের মধ্যে দু-একজন স্থানীয় নেতা রয়েছেন।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়।
মতবিরোধ ও ক্ষোভ : জেলা বিএনপির অভ্যন্তরে নেতৃত্ব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ রিয়াজউদ্দিন রানা অভিযোগ করেন, “যারা দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তারাই প্রকৃত নেতৃত্বের দাবিদার। অথচ অনুপ্রবেশকারীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এমনকি এক যুবলীগ নেতার আত্মীয়কেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দলের জন্য আত্মঘাতী।” তার এ বক্তব্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিতর্ক তৈরি হয়। সিনিয়র নেতাদের একাংশ মনে করছেন, বিতর্কিত ও সুযোগসন্ধানী ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়ার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পিরোজপুরে দীর্ঘদিন পর বিএনপির কাউন্সিল আয়োজন দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নতুন উদ্দীপনা আনতে পারত। কিন্তু নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে অনাস্থা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং অনুপ্রবেশের অভিযোগ সেই সুযোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাদের মতে, সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ত্যাগী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচন নিশ্চিত না হলে দলের ঐক্য আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

