১৩/০২/২০২৬, ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
19 C
Dhaka
১৩/০২/২০২৬, ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

পীরগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে চাপোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জালিয়াতি করে প্রধান শিক্ষক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে মঞ্জুরে খোদা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে গত বছরের (২৫’ অক্টোবর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক আফিজুল ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে ৩৩ শতক জমি নিয়ে চাপোড় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন পীরগঞ্জ উপজেলার চাপোড় গ্রামের আফিজুল ইসলাম। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। দাতাদের কাছে জমি নিয়ে ঘর বাড়ি তৈরি করে পাঠদান শুরুও করেন তিনি।

কিন্তু হঠাৎ ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব বিস্তার করে কৌশলে প্রধান শিক্ষক বনে যান মঞ্জুরে খোদা। সরকারি বিল বেতনও পাচ্ছেন নিয়মিত। অপরদিকে প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক আফিজুল ঘুরছেন আদালতের বারান্দায়।

সর্বশেষ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে অভিযোগও করেছেন তিনি। কিন্তু পাচ্ছেন না কোন প্রতিকার।

উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ৫৭০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নেয়ায় সেই তালিকায় বিদ্যালয়টি অন্তভুক্তি হয়। বিদ্যালয়টি সরকারি করণের অন্তর্ভুক্ত হলে তৎকালীন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক আফিজুল ইসলামের নাম বাদ দিয়ে তার আপন ছোট ভাই মঞ্জুরে খোদাকে রাতারাতি প্রধান শিক্ষক ও তার বউ আকতার বানু এবং রত্না রানি নামে অপর একজনকে সহকারী শিক্ষক বানিয়ে তাদের নামের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়ে বেতন ভাতা করে নেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর আগেই কুয়েত দেশে পাড়ি জমান মুঞ্জুরে খোদা। দেশে ফেরেন ২০০৮ সালে। এ ভাবেই আওয়ামীলীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠদান না করিয়েও মঞ্জুরে খোদা হয়ে উঠেন প্রধান শিক্ষক।

তাৎক্ষণিক বিষয়টি জানতে পেরে আফিজুল ইসলাম জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ায় পরবর্তীতে ঠাকুরগাঁও আদালতে মামলা করেন এবং বর্তমানে হাইকোর্টে একটি মামলা চলমান রয়েছে। তার এই জালিয়াতির বিচার চেয়েছেন সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষক, জমি দাতা থেকে শুরু করে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে চাপোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক আফিজুল ইসলাম বলেন, আমি বিদ্যালয়টি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠা করি। অনেক কষ্ট করে জমি ম্যানেজ করে মাটি ভরিয়ে ঘর বাড়ি তৈরি করি। হঠাৎ মঞ্জুরে খোদা প্রধান শিক্ষক হয়ে সরকারি বেতন তুলছেন আমি তার বিচার চাই।

তবে সব দোষ অস্বীকার করে বর্তমান প্রধান শিক্ষক পদে থাকা মঞ্জুরে খোদা বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেগুলো অভিযোগ করা হচ্ছে এগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট। ২০১৩ সালে যখন বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের প্রক্রিয়া চলছিল তখন আমাকে হয়রানি করার জন্যে একটি স্বার্থন্বেষী মোহল বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দায়ের করেন আদালতে মামলা করেছেন। বর্তমানে হাইকোর্টে মামলা চলছে।

এ ব্যাপারে সম্প্রতি বিদ্যালয়টিতে অভিযোগের তদন্তে এসে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন জানান, অভিযোগের তদন্ত চলছে দুই পক্ষের কাগজ পত্র দেখা হচ্ছে দেখা শেষ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

দেখুন: ধ্বং*স প্রায় ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী দুটি রাজবাড়ী 

এস

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন