২৪/০২/২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ
30.1 C
Dhaka
২৪/০২/২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী খাকি পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।

মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার পুলিশের যে খাকি পোশাকটা ছিল, তা ২০০৪ সালে পরিবর্তন করে বর্তমানে যে ব্লু পোশাকটা আমরা পরেছি, পরতেছি এই পোশাকটা নির্ধারণ করেছিলেন। এই পোশাকটাতেই আমরা ফিরতে চাই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে পোশাক পরিবর্তন করেছে ওইটা আমরা নিতে চাই না। আমরা পূর্ববর্তী পোশাক তথা ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার খাকি পোশাকটা পরিবর্তন করে ব্লু যে পোশাকটা বাংলাদেশ পুলিশকে দিয়েছিল, এই পোশাকটাতেই আমরা ফিরতে চাই।

সংগঠনটি বলেছে, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী খাকি পোশাক পরিবর্তনের আগে আরও গবেষণা ও জনমত যাচাই প্রয়োজন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৩-২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশের ইউনিফর্ম নির্ধারণ করেছিল। সে সময় পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, দেশের আবহাওয়া, দিন ও রাতের ডিউটিতে সহজে চিহ্নিত হওয়ার বিষয় এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্য এড়ানোর দিকগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেছে, সেখানে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মতামত, গায়ের রং ও আবহাওয়াগত বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। পাশাপাশি অন্যান্য ইউনিফর্মধারী সংস্থার সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় পুলিশ সদস্যদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আরও দাবি করেন, বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য তড়িঘড়ি করে নেওয়া এ সিদ্ধান্তের পক্ষে নন। তাদের মতে, বর্তমান পোশাক বাংলাদেশ পুলিশের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় সব পুলিশ সদস্য বর্তমান ইউনিফর্ম পরেই দায়িত্ব পালন করেন। তাদের পেশাদারিত্ব দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

এছাড়া ইউনিফর্ম পরিবর্তনকে ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ এবং লজিস্টিক সহায়তা বাড়ানো বেশি যৌক্তিক হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পোশাকের রং বা নকশা নয় বরং পুলিশ সদস্যদের মনোবল, মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের উন্নয়নই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা ও জনমত যাচাই করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত এবং পুলিশ সদস্যদের আবেগ ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

পড়ুন: কুমিল্লায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ দগ্ধ ৪

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন