পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কিছু পরিবর্তন তো আসবেই। পুলিশকে জনগণের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে এবং ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জানা গেছে, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ (আইজিপি) শীর্ষ ছয়টি পদে পরিবর্তন আসছে। আইজিপি ছাড়াও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ডিজি, বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এবং ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) প্রধান পদেও পরিবর্তন আসতে পারে। এ ছয়টি পদের মধ্যে প্রথম চারটিতে সবাই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের চুক্তি বাতিল করা হতে পারে। অন্যদিকে শেষ দুইটি পদে যারা আছেন, তারা নিয়োগ পেয়েছেন একটি রাজনৈতিক দলের সুপারিশে।
পুলিশের শীর্ষ ছয় পদে পরিবর্তনের গুঞ্জন সর্বত্র। ওই পদগুলোতে কাদের নিয়োগ দেওয়া হতে পারে-সেই বিষয়েও জোর আলোচনা রয়েছে। এই পদগুলোতে যাদের পদায়নের সম্ভাবনা আছে তাদের মধ্যে রয়েছেন-হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) দেলোয়ার হোসেন মিঞা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ছিবগাত উল্লাহ, র্যাবের মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার (সুপার নিউমারি অতিরিক্ত আইজি) হাসিব আজিজ, গত সরকারের শেষের দিকে অবসরে যাওয়া অতিরিক্ত আইজিপি মতিউর রহমান শেখ, অবসরপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক (কো-অর্ডিনেটর, গ্রেড-১) আনসার উদ্দিন খান পাঠান, অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান, র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ (সুপার নিউমারি অতিরিক্ত আইজি), অতিরিক্ত আইজিপি (উন্নয়ন) সরদার নুরুল আমিন প্রমুখ।
তবে আইজিপি হিসাবে আলী হোসেন ফকির, হাসিব আজিজ, মোসলেহ উদ্দিনের নাম বেশি আলোচনায়। তবে ১৫তম ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান বা ১২তম ব্যাচের মতিউর রহমান শেখকে আইজিপি হিসাবে নিয়োগ দিলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এই দুইজনের মধ্যে জুলাইযোদ্ধা হিসাবে ব্যাপকভাবে আলোচিত ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান। তিনি র্যাবের মহাপরিচালকের (ডিজি) দৌড়ে এগিয়ে আছেন। আর মতিউর রহমান শেখ অতিরিক্তি আইজিপি (প্রশাসন) পদ থেকে এলপিআর-এ যান কয়েকমাস আগে। তিনি তার চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর অবেদন করলেও অন্তর্বর্তী সরকার তা মঞ্জুর করেননি। যদিও ওই সময় এসবি প্রধান এবং র্যাবের ডিজির চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার হিসাবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে হাসিব আজিজের নাম বেশি আলোচনায়। এ আলোচনায় আছে মোসলেহ উদ্দিনের নামও। র্যাবের মহাপরিচালক হিসাবে ব্যারিস্টার জিল্লুরের সঙ্গে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে আহসান হাবিব পলাশের নাম। এসবি প্রধান হিসাবে সরদার নুরুল আমিনের নাম জোরে-শোরে উচ্চারিত হচ্ছে। এছাড়া আইজিপি, র্যাব ডিজি এবং ডিএমপি কমিশনার পদের জন্য লবিং করে যারা ব্যর্থ হবেন তাদের মধ্য থেকেই এসবি-সিআইডি প্রধান এবং অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

