রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)র নির্মানাধীন পূর্বাচল নতুন শহরে বেড়েই চলছে অবৈধ দখলদার। পাশাপাশি বাড়ছে মাদক,ছিনতাই, চুরির ঘটনা৷ এদিকে দীর্ঘ ৩২ বছরেও পূর্বাচলে বসবাস শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।
রাজউক সূত্রে জানা যায়, ৬ হাজার ৫শত এক জমি নিয়ে রাজধানীর ঘনবসতির চাপ কমাতে ১৯৯৩ সালের এক প্রজ্ঞাপনে শুরু হয় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সদর ও দাউদপুর ইউনিয়নসহ গাজীপুরের কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের পারাবর্তা ও বরকাউ নামীয় দুটি মৌজায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প। যেখানে এ পর্যন্ত ৩শ ফুট সড়ক ও ঢাকা বাইপাস সড়কের যোগাযোগের সুবিধা মাধ্যমে গড়ে ওঠেছে অভ্যন্তরীণ রাস্তা ঘাট, ড্রেনেজ, লেকসহ বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা। তবে নিরাপত্তা না থাকায় এবং রাজউকের ভবন তৈরীর অনুমোদন জটিলতায় এখনো শুরু হয়নি ভবন তথা বাসিন্দাদের বসবাস। এ সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নাম ভাঙ্গিয়ে সেক্টরে সেক্টরে গড়ে ওঠেছে অবৈধ দখলদারদের করা অস্থায়ী খাবার হোটেল। কোথাও করা হয়েছে পাকা স্থাপনা। ফলে দিনে দিনে বাড়ছে দখলদার।
স্থানীয় বাসিন্দা জজ মিয়া বলেন, পূর্বাচলের প্লটগুলোর আকার দেয়া হয়েছে ঠিকই কিন্তু ভবন করার অনুমোদন পাওয়া কঠিন। আবার মাদক কারবারি, ছিনতাইকারীদের অবস্থান থাকায় অনেকে ভয়ে বাড়ি করছেন না। এতে নির্জন এলাকাটিতে দখলদারও বেড়েছে। এসব নিয়ে রাজউকের ভাবা উচিত।
এলাকাবাসি জানান, শুধু দখলদারই নয়। দিনে দুপুরে মাদকসেবীদের দৌড়াত্ন্য, পথে পথে ছিনতাই, নির্জন প্লট থেকে ফটক,নির্মাণ সামগ্রী চুরি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় প্লট মালিক ও পূর্বাচল আদিবাসিসহ দর্শনার্থীরা।
গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা রেজাউল করিম খোকন বলেন, ১৯৯৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৩২ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা হতাশায় ভুগছি।
এখানকার প্লট মালিকরা তাদের বিপুল পরিমাণ টাকা ফেলে রেখেছে। কিন্তু ভবন করে বসবাস করতে পারছে না। তাদের দাবী পূ্র্বাচলে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, ছিনতাই, ডাকাতি হওয়াতে ভয়ে কাজ শুরু করেন না অনেকে। আবার রাজউকের নানা রকম হয়রানীর রয়েছে অভিযোগ।
রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পূর্বাচলের বাসিন্দা বাছির উদ্দিন বাচ্চু বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরী পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সূচনা করেন। সরকার ঠিকমতে কাজ করলে পরবর্তী ১০ বছরে বসবাসযোগ্য পরিবেশ দিতে পারতেন। কিন্তু রাজউকের অসাধু কর্মকর্তা ও বিগত আওয়ামীলীগ সরকার নিজেরা প্লট ভাগাভাগি করতে গিয়ে শহরের কাজের দিকে মন দেয়নি। এতে স্থানীয় আদিবাসী হিসেবে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি বেশি। নিজেদের বাপ দাদার ভিটে হারিয়ে এখনো নিজের মতো করে নিজেদের বাড়ি করতে পারিনি। এভাবে প্লট যারা পেয়েছেন বা কিনেছেন তারাও তাদের পুঁজি ফেলে রেখেছেন। কিন্তু নিজে ভোগ করতে পারছেননা। তাই রাজউক ও গৃহায়ণ গণপূর্তমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের এসব নিয়ে ভাবা দরকার।
রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সবজেল হোসেন বলেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকার ঘোষিত ৪ টি থানা বাস্তবায়ন না হওয়া,টহলটীমে পর্যাপ্ত জনবল না থাকা ও নির্জনতা হওয়ায় তথ্যের অভাবে কিংবা ভুক্তভোগীদের থানায় অভিযোগ কম থাকায় পূর্বাচলকে নিরাপদ করতে হিমসিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহীনিকে। তবে রূপগঞ্জ থানার অধীনে পূর্বাচল পুলিশ ক্যাম্প, র ্যাব ১ এর সিপিসি ৩ ক্যাম্প, সেনা টহলের মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ চলছে। ইতিমধ্যে পূর্বাচল দক্ষিণ ও উত্তর নামে দুটি থানা ঘোষণা হয়েছে৷ আশা করি সে কার্যক্রম শুরু হলে সব সমস্যা দূর হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী, পূর্বাচলের প্লটগুলোতে মালিকদের ভবন নির্মান হলে, বসত শুরু করলেই কেবল কমবে নানা অপরাধ। উচ্ছেদ হবে দখলদার৷ চিহ্নিত সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় নিয়ে আসলে, সর্বসাধারণের সম্মিলিত পদক্ষেপ থাকলে এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।


