নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় নোয়াগাঁও গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে আপন চাচার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ভাতিজা। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত চাচা মো. মোশারফ হোসেন বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে এ ঘটনার বিস্তারিত জানা যায়।
ভুক্তভোগী মো. মোশারফ হোসেন নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। তার ওপর হামলাকারী যুবকের নাম রিফাত (২২)। সম্পর্কে মোশারফের আপন বড় ভাই আলী আহম্মদের ছেলে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রিফাত পলাতক রয়েছেন।
ভুক্তভোগী মোশারফের আপন বড় আরেক ভাই মোহাম্মদ আলী ও অভিযুক্তের চাচা চারদিন আগে মারা যান এবং এ উপলক্ষে ঘটনার দিন এলাকার মসজিদের ইফতারে পূর্বে মরহুমের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও ইফতারের আয়োজন চলছিল। গতকাল সোমবার ইফতারের প্রায় ১৫-২০ মিনিট আগে ঘটনাটি ঘটে। ইফতার নিয়ে মসজিদে যাওয়ার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রিফাত তার চাচা মোশারফকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা আয়াত রহমান জানান, রিফাত দৌঁড়ে এসে তার চাচাকে পেটে এবং উরুতে দুটি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। দোকানদার শফিকুল ইসলাম জানান, তার দোকানের সামনেই এ ঘটনা ঘটে এবং সেখানে প্রচুর রক্তপাত হয়। শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয়রা জানান, ছুরিকাঘাতে মোশারফের পেট থেকে ভুঁড়ি বের হয়ে গেলে স্থানীয়রা গামছা দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে প্রথমে বারহাট্টা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে সেখান থেকে মমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আহতের আরেক ভাতিজা মারুফ জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর আল্ট্রাসনোগ্রাম ও অপারেশন করানো হয় এবং রাত ৩টা থেকে ভুক্তভোগীকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, রোগীর অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং ভু্ক্তভোগীর জ্ঞান ফিরে আসেনি এবং তার মুখ থেকে এখনো কথা বের হয়নি।
ভুক্তভোগীর মা আছিয়া আক্তার জানান, রিফাত তার নিজের নাতি হলেও পূর্বশত্রুতা ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ হামলা করেছে। ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র একটি মামলা চলমান রয়েছে এবং সেই আক্রোশ থেকেই এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
অভিযুক্ত রিফাতের মা শাহানা জানান, তিনি নিজের চোখে ঘটনাটি দেখেননি। তবে লোকমুখে শুনেছেন তার ছেলে মোশারফকে আঘাত করেছে এবং পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে তার ছেলে বাড়িতে ফেরে নাই। সে কোথায় আছে সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না বলে তিনি দাবি করেন।
একই কথা জানিয়েছেন রিফাতের বোন স্বর্ণা আক্তার। তিনি বলেন, “মানুষের কাছ থেকে শুনেছি রিফাত আমার চাচাকে ছুরি মেরেছে, কিন্তু আমরা নিজের চোখে দেখিনি। রিফাত কাল রাতে বাসায় ছিল না, কোথায় পালিয়ে গেছে বা কোথায় আছে আমরা তা জানি না।”
এ বিষয়ে বারহাট্টা থানার ওসি মো. নাজমুল হাসান জানান, এখনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন : ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার


