০৯/০২/২০২৬, ২১:২৭ অপরাহ্ণ
23 C
Dhaka
০৯/০২/২০২৬, ২১:২৭ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

প্রত্যাশার নতুন বাংলাদেশ গড়তে দেশবাসীকে নৈতিকভাবে ভাবতে হবে: জামায়াত আমির

প্রত্যাশার নতুন বাংলাদেশ গড়তে দেশবাসীকে নৈতিকভাবে ভাবার আহবান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিটিভিতে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষনে তিনি এ আহ্বান জানান।

দুর্নীতি ও দুশাসন মুক্ত মানবিক ইনসাফের দেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ১১ দলীয় প্রার্থিদের বিজয়ী করার আহবান জানান জামায়াত আমির।

এর আগে, গতকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিটিভিতে জাতির উদ্দেশে দেয়া এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের (চরমোনাই পীর) ভাষণ সম্প্রচার করা হয়। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় নাহিদ ইসলামের ভাষণ এবং এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় চরমোনাই পীরের ভাষণ সম্প্রচার করে বিটিভি।

এই প্রচলিত ধারা বদলাতে চাই। সবাইকে নিয়ে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই।’ আজ সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।
পাঠকদের জন্য জামায়াত আমিরের পুরো বক্তব্যটি দেওয়া হলো—

বিজ্ঞাপন

‘প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করি আল্লাহর মেহেরবানিতে আপনারা সবাই ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের সামনে এখানে এসেছি কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক ভাষণ দিতে নয়। আজ আমি একেবারে মনের ভেতরের কিছু কথা বলতে চাই। যে কথাগুলো একজন জেন-জি, একজন যুবক, আর আমাদের প্রজন্ম সবার সঙ্গে সম্পৃক্ত। একজন মুসলমানের জন্য যেমন, তেমনি আমাদের দেশের অন্য ধর্মের ভাই-বোনদের জন্যও।’


‘প্রিয় দেশবাসী, আজ আমি এখানে যাদের কারণে কথা বলছি, সেই জুলাইয়ের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদেরও গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে এখনো বহু মানুষ আহত আছেন।

আমি তাদের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করছি। জুলাই হয়েছিল কারণ আমাদের দেশ এক হয়েছিল। জুলাইতে রাস্তায় নেমেছিল আমার তরুণ বন্ধুরা। রাস্তায় নেমেছিল আমাদের প্রিয় মা-বোন-মেয়েরা। রাস্তায় নেমেছিল শ্রমিক, রিকশাশ্রমিক ভাইয়েরা এবং সব মেহনতি জনতা।

ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও তখন এক হয়েছিল। শিক্ষক, প্রকৌশলী, ডাক্তারসহ সব শ্রেণির পেশাজীবী মানুষও রাস্তায় নেমে এসেছিল। দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও সে সময়ে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে। আমরা জুলাই আর চাই না; আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে আর কোনো দিন জনগণকে রাস্তায় নামতে না হয়। আমাদের বুঝতে হবে, জুলাই কেন হয়েছিল। জুলাই হয়েছিল একটা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য। জুলাই হয়েছিল একটা কালো রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তনের জন্য।

যুগের পর যুগ ক্ষমতা কুক্ষিগত ছিল পরিবারতন্ত্রের হাতে, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে। সেখান থেকে মুক্তির জন্য। বিশেষ করে ২০০৯ সাল থেকে জাতির ওপর এমন এক শাসকগোষ্ঠী চেপে বসে যারা মানবাধিকার, ভোটাধিকারসহ সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফেলে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, আয়নাঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ওপর নিপীড়ন চালায়। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর পরপর তিনটি জাতীয় নির্বাচনের নামে তামাশার মাধ্যমে আমাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। এসব নিপীড়ন ও অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্যই এসেছিল রক্তাক্ত জুলাই।’

‘আমাদের তরুণরা এখন একটা নতুন দেশ দেখতে চায়। যে দেশকে তারা গর্ব করে বলতে পারবে নতুন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ২.০। এক কথায় যদি বলি দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। কিন্তু একটি মহল পরিবর্তনের বিরোধী।  কারণ পরিবর্তন হলেই তাদের অপকর্মের পথ বন্ধ হবে, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এই সংস্কৃতি বদলানোর সাহস সবার থাকে না। ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর হিম্মত সবার থাকে না। এই হিম্মত দেখিয়েছে আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওসমান হাদী ও তাদের সহযোদ্ধারা। তাদের রক্তের শপথ নিয়ে নতুন প্রজন্মের লাখ লাখ সাহসী সন্তান আজ এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। এই দেশ আমাদের সময়ের এই সাহসী সন্তানদের হাতেই তুলে দিতে হবে। কারণ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এই তরুণরা রচনা করবে। এই তরুণরা পরিশ্রমী। এই তরুণরা সাহসী, এই তরুণরা মেধাবী। এই তরুণরা পরিবর্তনকে ভালোবাসে। এই তরুণরা নতুনকে আলিঙ্গন করে। এই তরুণরা সত্য বলতে দ্বিধা করে না।
এই তরুণরা প্রযুক্তি বোঝে এবং সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে জানে। তারাই পারবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে। আমরা তোমাদের হাত ধরতে চাই। জুলাইয়ের মতো—কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার কাজে সঙ্গী হতে চাই। প্রচলিত ধারা বদলাতে চাই। দেশটা বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকুক, মানুষের জীবনে শান্তি ফিরুক। এই আমাদের চাওয়া। সবাইকে নিয়ে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে। এমন বাংলাদেশ যেখানে কেবল পারিবারিক পরিচয়ে কেউ দেশের চালকের আসনে বসতে পারবে না। এমন বাংলাদেশ যেখানে রাষ্ট্র হবে সবার, সরকার হবে জনগণের।’

‘প্রিয় দেশবাসী, জনগণ চায় একটু নিরাপত্তা সুশাসন ও ইনসাফ। তাই আগামীর বাংলাদেশকে এসব অঙ্গীকার ও মূল্যবোধের আলোকে সাজাতে চাই। রাষ্ট্রের মৌলিক কিছু সংস্কারের লক্ষ্যে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করে; কিন্তু এসব পরিকল্পনার সবগুলো যেমন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি তেমনি অনেকগুলো একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি এবং এ সংস্কার প্রক্রিয়াকে জারি রাখাসহ সংস্কার নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। এ গণভোট জনগণের সাধারণ ইচ্ছা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চাই।’

পড়ুন : ‘ভোট কারচুপি করে কিছু সরকারি কর্মকর্তা একটি পক্ষকে জেতাতে চেষ্টা করছে’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন