সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় নিজেদের দাবি ভারতের কাছে পুনরায় উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসের পোর্ট লুইসে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীতে ভারত সফর করবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে খলিলুর রহমান বলেন, “সফর অবশ্যই হবে। তবে তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যে চিঠি বিনিময় করেছেন ও ফোনে কথা বলেছেন। দুই দেশই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী।”
দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক শেষে মরিশাসে ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে খলিলুর রহমান এসব কথা বলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। দিল্লিতে সেই দাবিরই পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে সব কিছু এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে ফেরাতে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারও সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায় বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়গুলোও স্থান পেয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্ক ও বিমসটেক সক্রিয় করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো মিটিয়ে ফেললে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনে কোনো বাধা থাকার কথা নয়।”
সূত্র : দ্যা হিন্দু


