দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে তাঁর সন্তান তার ভগ্নী এবং তাঁর সন্তানের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক, কারও কারও ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মামলা করে দুদক।
তাঁদের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা এখন অনুসন্ধানে রয়েছে। নির্বাচনের সময় সম্পদের যে প্রদও বিবরণী শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন দুদকের পরীক্ষায় তা দেখা গেছে অনেকাংশে সম্পদের পরিমাণ গোপন করা হয়েছে। জনসাধারন প্রত্যাশা করলে মৌলভীবাজার জেলাকে দুর্নীতি মুক্ত করতে দুদকের অভিযান আর বৃদ্ধি করা হবে, মৌলভীবাজারে দুদকের গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে গণশুনানিতে চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যেমন একটি বাহিনীর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার উদ্ভব হয়েছিল, তেমনি গত ৫ আগস্টের পর বেশ কিছু ব্যক্তি ভুয়া সমন্বয়ক ও ভুয়া দুদক চেয়ারম্যান পরিচয়ে প্রতারণা করার চেষ্টা করেছে। আমরা এসব ভুয়া পরিচয়ধারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো তবে এটাও সত্য যে, আমাদের মাঝেও কিছু সীমিত দুর্নীতি রয়েছে। এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে সবার আগে সরবরাহ পক্ষ বন্ধ করতে হবে। সমাজে দুর্নীতির গোড়াপত্তন হয় মিথ্যাচারের মাধ্যমে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। এগুলো দমন করতে পারলে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রয়োজন হতো না।
আজ রবিবার (১৮ মে) সকালে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধে মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে দুদকের এই গণশুনানী অনুষ্টিত হয়। গত ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর এটিই মৌলভীবাজারে দুদকের প্রথম গণশুনানি। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদকের কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ, দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হুসাইন, মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রাফি মো. নাজমুস সাদাৎ এবং হবিগঞ্জ সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. এরশাদ মিয়া।
এসময় সেবা বঞ্চিত সংক্ষুব্ধ জনগণ তাদের অভিযোগ প্রমাণসহ কমিশনের সামনে তুলে ধরেন। এসব অভিযোগ শুনার পর দুদক চেয়ারম্যান প্রয়োজনীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।
এনএ/


