০২/০৩/২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
31 C
Dhaka
০২/০৩/২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

প্রধান শিক্ষকের রহস্যজনক মৃত্যু: স্ত্রীসহ নজরদারিতে কয়েকজন

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বারমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের জনপ্রিয় প্রধান শিক্ষক চন্দন কুমার দাস (রাখাল) (৫৭) ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেসড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঁচদিন নিবিড় পর্যবেক্ষনে থেকে মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় শিলা দাসসহ কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

এরআগেত গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে চন্দন কুমার দাস শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দুর্গাপুর পৌরশহরের ৪নং ওয়ার্ড আমলাপাড়া এলাকার মৃত চন্দ্র শেখর দাসের বড় ছেলে।

গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ওই স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, সকাল ১০ টায়ওই প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী শেলী রানী দাস স্কুলের এক শিক্ষককে মুঠোফোনে বলেন, তাঁর স্বামী অসুস্থ্য তাই দ্রুত তাঁর বাসায় চলে আসতে বলেন। পরবর্তিতে ওই শিক্ষক হেড স্যার অসুস্থ্য বলে তার অন্যান্য শিক্ষক বন্ধুদের নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বাসায় গেলে, হেড স্যারের স্ত্রী তাদের স্যার কে দেখতে বারণ করেন এবং তাড়াাতাড়ি ডাক্তার কে খবর দিতে বলেন। পরে এলাকাবাসী এবং ওই সহকারী শিক্ষকগণ স্যারকে হাসপাতালে নিতে চাইলে তার স্ত্রী হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতেই ডাক্তার আনতে বলেন।

পরবর্তিতে এ বিষয়টি কারো কারো সন্দেহ হলে, একপ্রকার জোর করেই কয়েকজন ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পান, স্যারের শরীর প্রায় ঠান্ডা হয়ে আসছে। ওনার হাতে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাঁটাচিহ্ন রয়েছে। পরে দ্রুত অটোরিকশাযোগে তাকে দুর্গাপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে, রোগীর অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে দ্রুত ময়মনসিংহে নেয়ার পরমর্শ দেন। পরবর্তিতে রোগীর স্বজনরা দুপুর ১২টার দিকে এম্বুলেন্সের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নিয়ে যান। পরে ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেসড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। প্রায় পাঁচদিন নিবিড় পর্যবেক্ষনে থেকেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি চিকিৎসকগন।

একাধিক এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রচন্ড বাগ-বিতন্ডতা শুনতে পাই এবং কিছু জিনিষপত্র ভাংচুরেরও শব্দ পেয়েছি। তবে মাঝে মধ্যেই তার স্ত্রীর এমন আচরণ আমরা লক্ষ করি। যার কারনে আমরা ওইদিন রাতে ওই বাড়িতে কেউই যাইনি। পরদিন সকালে বিস্তারিত জানতে পারি।

প্রধান শিক্ষকের সহকর্মী মোজাম্মেল মাস্টার জানিয়েছেন, চন্দন স্যারকে তার বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর দেখতে পাই তার গলায় এবং বাম হাতে কাটা চিহ্ন রয়েছে এবং কাটার ক্ষতস্থান দিয়ে তখনো রক্ত ঝরছিলো, সেইসাথে মুখ দিয়ে গন্ধযুক্ত লালা বেরোচ্ছো। তিনি আরও বলেন, তাদের প্রধান শিক্ষককে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন সহ চেতনানাশক কোন কিছু খাওয়ানো হয়ে থাকতে পারে। আমাদের স্যারকে হয়তো অজ্ঞান করার পর, নির্যাতনও করা হয়েছে। স্যারের মৃত্যু রহস্যজনক, আমরা শিক্ষক সমাজ, তদন্ত সাপেক্ষে এর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।

প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুতে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ, বারমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী, উপজেলা শিক্ষক সমিতি, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, দুর্গাপুর প্রেসক্লাব, পৌরশহরের ব্যাবসায়ীগণ গভীর উদ্বেগ প্রকাশসহ ন্যায় বিচারের দাবী করেছেন। অনেকেই বলছেন এই মৃত্যু রহস্যজনক। দুর্গাপুরের প্রানপ্রিয় প্রধান শিক্ষকের নির্যাতনে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহের সিবিএমসি হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে।

এ নিয়ে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষকের মরদেহ গতকাল রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে আনা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুর্গাপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে। পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর জট খুলে যাবে, তবে শিক্ষকের স্ত্রী শিলা দাস সহ কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ওই প্রধান শিক্ষকের ছোট ভাই টুকন চন্দ্র দাস গত ছয় মাস আগে আকষ্মিক মৃত্যু হয়। বিবাহিত জীবনে ওই শিক্ষকের কোন সন্তানাদি না থাকায়, একমাত্র ছোট ভাইয়ের মেয়ে টুম্পা দাস কে নিজের মেয়ের মতো লালন পালন করতেন। এটি দেখেই তার স্ত্রী শেলী দাস, ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রায়ই ওই শিক্ষকের সাথে ঝগড়া বিবাদ করে সংসারে অশান্তি লাগিয়ে রাখতেন। প্রাণপ্রিয় প্রধান শিক্ষক রাখাল স্যারের লাশ এক নজর দেখার জন্য, পৌরশহরের প্রেসক্লাব মোড়ে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দাঁড়িয়ে রয়েছে শত শত মানুষ। এছাড়া শিক্ষক রাখালের মৃত্যু তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের দাবীতে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে মানববন্ধন করবে শিক্ষার্থীরা জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নেত্রকোনায় প্রধান শিক্ষকের রহস্যজনক মৃত্যু

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন