39.9 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫

২৪ দিনেই মাসের রেকর্ড ভেঙেছে প্রবাসী আয়

চলতি মাসের ২৪ দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে একক মাসের আগের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে, মাত্র সাত দিন বাকি থাকতেই, প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ২৭৫ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন। এর আগে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২৬৪ কোটি ডলার। বর্তমানে, রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, এবং ডলারের দর ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ মার্চ পর্যন্ত দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১১ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। যদি বাকি সাত দিনেও সমপরিমাণ রেমিট্যান্স আসতে থাকে, তবে চলতি মাসে মোট সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার আসবে, যা মাসিক রেকর্ড হবে। গত বছর মার্চ মাসে ২৪ দিনে এসেছিল ১৫৫ কোটি ডলার এবং পুরো মাসে এসেছিল ২০০ কোটি ডলারের কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেছেন, সরকার অর্থ পাচার প্রতিরোধে বেশ কিছু কার্যক্রম নিয়েছে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো রেমিট্যান্সে প্রণোদনা পাওয়া যাচ্ছে, যা খোলাবাজারের চেয়ে বেশি। এতে হুন্ডি চাহিদা কমেছে, এবং রপ্তানি আয়ের বৃদ্ধি রিজার্ভের স্থিতিশীলতায় সহায়ক হয়েছে। রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধির কারণে ডলার বাজারে স্বস্তি ফিরেছে এবং রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ বিলিয়ন ডলারে।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১২৪ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৬৬২ কোটি ডলার। অর্থাৎ, রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪৬১ কোটি ডলার, যা ২৭.৭০ শতাংশ বৃদ্ধি। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়ছে, এবং করোনাভাইরাসের সময়েও একবার রেমিট্যান্সে এমনই বৃদ্ধি হয়েছিল। ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৩৬ শতাংশের বেশি।

রিজার্ভের পরিমাণ ২০ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পর, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যেই ৩৩০ কোটি ডলার বকেয়া পরিশোধ করেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে ইঙ্গিত দেয়। এর আগে, ২০২৩ সালের ৯ মার্চ রিজার্ভ কমে ১৯ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল, এবং আগস্ট মাসে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছিল, কিন্তু এখন রিজার্ভের পরিমাণ আরও বেড়ে গেছে।

এছাড়া, বাংলাদেশ সরকারের অর্থ পাচার প্রতিরোধ কার্যক্রমও শক্তিশালী হচ্ছে। ১১টি যৌথ বিশেষ টিম বর্তমানে অর্থ পাচার বন্ধ এবং সরকারের পক্ষ থেকে অবৈধ অর্থ ফেরাতে কাজ করছে। এই কার্যক্রমের ফলে, দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

এরপরও, অর্থনীতি চলমান চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটি ইতিবাচক দিক হলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। এর ফলে দেশের অর্থনীতি সুসংহত হচ্ছে এবং মানুষের জীবনযাত্রা সহজতর হচ্ছে। বিশেষত, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন ডলার বিক্রি না করে, বরং বকেয়া অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে রিজার্ভ শক্তিশালী করছে। এতে, প্রবাসী আয়ের বিপুল পরিমাণ অবদান দেশের অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করছে।

পড়ুন: প্রয়োজন ৪০ লাখ টাকা; প্রবাসীর আকুতি ‘আমি বাঁচতে চাই’

দেখুন: স্বজনদের ছেড়ে কেমন কাটছে প্রবাসীদের ঈদ?

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বিশেষ প্রতিবেদন