দূর দেশের মাটিতে রুজির খোঁজে যাওয়া এক যুবকের স্বপ্ন থেমে গেল হঠাৎই—মাটির স্তূপের নিচে। কিরগিজস্তানের সোকুলুক শহরের একটি ইটভাটায় কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া গ্রামের আবুল খায়ের (৪২)।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে তার নিথর দেহ পৌঁছায় গ্রামের বাড়িতে। উঠোনজুড়ে তখন কান্নার ঢেউ—স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস। পাশের বাড়ির মানুষও চোখ মুছতে মুছতে দাঁড়িয়ে থাকেন; শোক যেন ছড়িয়ে পড়ে পুরো পাড়ায়।
খায়েরের ছোট্ট ছেলে আরহাম—মাত্র ১৫ মাস বয়স। আধো আধো কণ্ঠে ‘বাবা, বাবা’ বলে ডাকে সে। অথচ জীবিত বাবাকে কোনোদিন ছুঁয়ে দেখা হয়নি তার। জন্মের আগেই বাবা পাড়ি জমিয়েছিলেন বিদেশে। ভিডিও কলের পর্দায় গড়ে উঠছিল যে সখ্যতা, তা-ও ভেঙে গেল আকস্মিক এক মৃত্যুর ধাক্কায়।
পরিবারের অভাব ঘোচানোর স্বপ্নে ২০২৪ সালের জুনে, বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় কিরগিজস্তানে যান খায়ের। সেখানে ইটভাটায় কাজ করতেন। গত ২০ মার্চ দুপুরে কাজের সময় হঠাৎ মাটির স্তূপ ধসে পড়ে তার ওপর। সহকর্মীরা ছুটে এলেও শেষরক্ষা হয়নি—উদ্ধারের আগেই নিভে যায় তার জীবনসংগ্রামের প্রদীপ।
খায়েরের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বিদেশ যাওয়ার জন্য শেষ সম্বলটুকুও বিক্রি করে গিয়েছিলেন । “তার নিজের বলতে আর কিছুই ছিল না। এখন তার স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কীভাবে চলবে—এই দুশ্চিন্তায় আছি আমরা,” বলেন তিনি। আপাতত নিজের জায়গায় ঘর তুলে দিয়েছেন ভাইয়ের পরিবারকে।
শিশু আরহামকে কোলে নিয়ে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকেন তার মা। সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, পেছনে অপূর্ণ এক স্বপ্নের গল্প। পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে সহায়তার দাবি জানানো হয়েছে।
মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে শুধু এক শ্রমিকের দেহ নয়—চাপা পড়ে গেছে একটি পরিবারের আশা, একটি শিশুর ‘বাবা’ ডাকার ভবিষ্যৎ।


