২৯/০১/২০২৬, ১৯:১৫ অপরাহ্ণ
24 C
Dhaka
২৯/০১/২০২৬, ১৯:১৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

প্রশস্ত হচ্ছে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক, কমবে ঝুঁকি

রাঙামাটি জেলা সদরের মানিকছড়ি থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত সাড়ে ৬১ কিলোমিটার রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কটি সিঙ্গেল লেন থেকে ডাবল লেনে উন্নীত হচ্ছে। চলতি জানুয়ারি মাসেই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে। সড়কটি প্রশস্ত হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, কৃষিপণ্য ও মৌসুমি ফল বাজারজাতকরণে উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে সড়কটি। রোববার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

একনেক চেয়ারম্যান ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশন চত্বরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘রাঙামাটি (মানিকছড়ি)-মহালছড়ি-আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও যথাযথমানে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি শুরু হচ্ছে চলতি মাসে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া চার বছর মেয়াদি প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। যার পুরোটাই জিওবি অর্থায়নে। মূলত প্রকল্পটির উদ্দেশ্য, রাঙামাটি সড়ক সার্কেলের আওতাধীন রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের অপ্রশস্ত এ আঞ্চলিক মহাসড়কটি প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণের মাধ্যমে বিরাজমান সড়ক নেটওয়ার্কের মানোন্নয়ন তথা উন্নত, নিরাপদ, আরামদায়ক এবং সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী সড়ক নেটওয়ার্ক বাস্তবায়ন।

সওজ রাঙামাটি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি জেলা সদরের মানিকছড়ি থেকে খাগড়াছড়ি সদর পর্যন্ত সাড়ে ৬১ কিলোমিটার সড়ক ১২ ফুট থেকে ২৪ ফুট বা সিঙ্গেল লেন থেকে ডাবল লেনে উন্নীত হবে। পুরো সড়কে ১৩টি কালভার্ট সম্প্রসারণ, ৮৫টি নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া সড়কের দুই পাশে ড্রেন তৈরি ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক এলাকায় দুই মিটার করে বাড়তি প্রশস্ত করা হবে। প্রকল্পটির অধীনে সাড়ে ৬১ কিলোমিটার মোট সড়কের মধ্যে ৪০ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির ৮০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে। এরমধ্যে থাকবে সৌন্দর্যবর্ধনকারী, ঔষধি, বনজ বৃক্ষ।

রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কটি এ দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কিন্তু সড়কটি সিঙ্গেল লেনে হওয়ার কারণে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। রাঙামাটি সদর উপজেলার একটি অংশ, নানিয়ারচর ও খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার বাসিন্দারা পুরোটাই এ সড়ক নির্ভর। এসব এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কৃষি পণ্য, মৌসুমি ফল বাজারজাতকরণে সড়কটি ব্যবহার করেন। সড়কটি ডাবল লেনে প্রশস্ত হলে ওই এলাকার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মৌসুমি ফল বাজারজাত, নিরাপদ ভ্রমণ ও সড়কে ঝুঁকি কমাবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, ‘রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক সড়কটি রাঙামাটি থেকে মহালছড়ি পর্যন্ত ৩৮.৩৫ কিমি সড়কাংশ আনুমানিক ১৯৮৬ সালে তৎকালীন চেঙ্গী ভ্যালি প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মিত হয়। পরবর্তীতে মহালছড়ি থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত ২৩.১৫ কিলোমিটার সড়কাংশ খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগ জিওবি খাত থেকে নির্মাণ করে। সড়কের মোট দৈর্ঘ্য সাড়ে ৬১ কিলোমিটার।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোববার একনেক সভায় ‘রাঙামাটি (মানিকছড়ি)-মহালছড়ি-আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও যথাযথমানে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি পাস হয়েছে। এটি রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি জেলার মানুষের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সড়কে দুর্ঘটনা কমে আসার পাশাপাশি নিরাপদ ভ্রমণ, স্থানীয় কৃষি পণ্য, মৌসুমি ফল বাজারজাত করা আরও সহজতর হলে স্থানীয়ভাবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। ১ হাজার ৬৪ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটিতে ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ৮০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে। এরমধ্যে ওষধি, বনজ ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী বৃক্ষ থাকবে।’

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : রাঙামাটির স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল পেলেন ফুটবল প্রতীক

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন