গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ঘাঘট নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করে জব্দ করা প্রায় ২১ হাজার সিএফটি বালু লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মামলার ২ নম্বর আসামি মো. নুরনবী মিয়া ওরফে নয়নকে (২৩) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
তিনি জানান, এর আগে গত রোববার রাতে দুইজনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জব্বার। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আট আরও ১০জনকে।
গ্রেফতারকৃত মো. নুরনবী মিয়া রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন জব্দ করা বালু আমার জিম্মায় রেখেছিল। নিলাম দিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি বালু লুট করা হয়েছে। পরে নিলাম স্থগিত করে নিলাম কমিটির সদস্যগণ। এরপর ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পর আবারও বালু লুটে নিয়ে যাওয়া শুরু করেন পূর্বের চক্রটি। গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানামাত্র অভিযান পরিচালনা করি। এসময় বালু বহনকারী কাকড়া ও চালকে আটক করি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে এ মামলা দায়ের করেছি আমি।’
জানা যায়, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের নগর কাটগড়া (কন্নাবাড়ি চরঘাট) এলাকায় ঘাঘট নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৪ মার্চ সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীন অভিযান চালিয়ে প্রায় ২১ হাজার সিএফটি বালু জব্দ করেন। পরে এসব বালু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের জিম্মায় রাখা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা।
তবে অভিযোগ রয়েছে, জব্দ করা বালুর বড় অংশ রাতের আঁধারে ট্রাক্টরের মাধ্যমে সরিয়ে নেয় একটি প্রভাবশালী চক্র। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে, গত রোববার দুপুরে জব্দকৃত বালু নিলামে বিক্রির জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায়, অধিকাংশ বালু আগেই উধাও হয়ে গেছে। ফলে নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
পড়ুন:নববর্ষে মেট্রোরেল চলাচল নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
দেখুন:৫৫ বছর আগে বাংলাদেশে আসা বীর বাহাদুর অবশেষে ফিরে গেলেন
ইমি/


