24.5 C
Dhaka
০২/০৩/২০২৬, ২৩:০১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

সৈয়দপুরে অস্ত্রোপচারে প্রসূতির মৃত্যু

নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় সোগরা (২৮) বেগম নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। রোগীর স্বজনদের দাবি ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ৩ টার দিকে শহরের শহীদ তুলশীরাম সড়কে অবস্থিত গ্রীণ লাইফ ল্যাব এন্ড হসপিটালে এই ঘটনা ঘটে। নিহত সোগরা বেগম সৈয়দপুর পৌরসভার বাঁশবাড়ী আমিন মোড় এলাকার মো. আরিফ হোসেনের স্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

খোজ নিয়ে জানা গেছে, রোগীর পরিবারকে সাড়ে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে ঘটনাটি রফদফা করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত সোগরা বেগম ৪৫ দিনের গর্ভবতী ছিলেন। মূত্রনালীর রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ পড়ায় স্বজনরা চিকিৎসা জন্য তাকে ওইদিন রাত ১০ টার দিকে হাসপাতাটিতে যান। পরে ওই হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াজেরা সিফাত জাহান শান্তা রোগীকে দেখে জানান তার মূত্রনালীতে ইনফেকশন হয়েছে। এজন্য দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী তাকে হাসপাতালটিতে ভর্তি করানো হয়। ওইদিনই দিবাগত রাত পৌনে ৩ টার দিকে ডা. ওয়াজেরা নিজেই তার অস্ত্রোপচার শুরু করেন। এর আধা ঘন্টা পর সোগরা বেগমকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করে নিজেদের এম্বুলেন্সে করে রংপুরে নেওয়ার উদ্যোগ নেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোগীর পরিবারের লোকজনের বাধায় ব্যর্থ হয়ে পাশেই সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানার জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান রোগী অনেক আগেই মারা গেছেন। এতে রোগীর লোকজন ক্ষিপ্ত হলে কৌশলে তাদের ম্যানেজ করে সাড়ে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। রফাদফা হওয়ায় রোগীর স্বজনরাও সকাল হওয়ার আগেই লাশ বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু পরে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

এ নিয়ে কথা হয় মৃত্য সোগরার ভাবী মোছাঃ তামান্নার সাথে। তিনি জানান , অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সোগরা ভালোই ছিল। নিজে হেটে হাসপাতালে এসেছে । চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এব্যাপারে মৃত সোগরার স্বামী আরিফ প্রথমে কিছু বলতে রাজি না হলেও পরে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যে যাওয়ার সে তো চলেই গেছে। তাকে তো আর ফিরে পাবোনা। এখন ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধরে কি হবে। তারা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। তা দিয়ে সোগরার রেখে যাওয়া দুই সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য কাজে লাগাব। এতে সে শান্তি পাবে।

ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের ডা. ওয়াজেরা সিফাত জাহান শান্তার চেম্বার বন্ধ রয়েছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরও বন্ধ রয়েছে। এমনকি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তার কোন খোঁজ দিতে পারেননি। এজন্য এ বিষয়ে তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সৈয়দপুর গ্রীণ লাইফ ল্যাব এন্ড হসপিটালের ম্যানেজার শাহিনুর ইসলাম রোগী মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে শুধু বলেন নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে। এরচেয়ে বেশি কিছু বলতে পারবনা। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হুদা জুয়েল নওগাঁয় আছেন। তিনি আসলে তার কাছ থেকেই সব জেনে নিয়েন।

গ্রীণ লাইফ ল্যাব এন্ড হসপিটালের পরিচালক নাজমুল হুদা জুয়েলের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, রোগীর অবস্থা খুবই ক্রিটিকাল ছিল। আমরা অপারেশন না করলেও রোগী হয়ত মারা যেত। তাও আমরা চেষ্টা করেছি তাঁকে বাঁচানোর। মারা যাওয়ায় তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছে। এরপর তো আর কারো কোন অভিযোগ থাকার কথা নয়।

এনএ/

দেখুন: ডাক্তার ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা দিলেন প্রসূতি মায়ের, তারপর যা ঘটলো

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন