বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশে সংকটে পড়বেন তামাক চাষিরা

প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬ পাশ হলে মানিকগঞ্জ ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় তামাক চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ঐ অঞ্চলের তামাক চাষি ও এ খাতের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার ওপর। মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনা না করে এ আইন হলে তা কৃষি খাত ও কৃষকের ওপর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সম্প্রতি মানিকগঞ্জ ও কক্সবাজার জেলা থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্যদের কাছে দেওয়া চিঠিতে এমন উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় তামাক চাষিরা। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করার পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

স্থানীয় কৃষকরা যেসব সংসদ সদস্যের কাছে এই চিঠি দিয়েছেন তারা হলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের এস এ জিন্নাহ কবীর ও কক্সবাজার-৩ আসনের লুতফর রহমান কাজল।

সংসদ সদস্যদের কাছে দেওয়া চিঠিতে স্থানীয় তামাক চাষিদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা আপনার এলাকার সাধারণ কৃষক। বংশ পরম্পরায় তামাক আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করি। তামাক চাষ আমাদের কাছে কেবল একটি ফসল নয়- এটি আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা, সন্তানদের শিক্ষা খরচ, ঘরবাড়ি নির্মাণ ও গ্রামের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিও।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি প্রণীত খসড়া ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ৭(৫) উপধারায় উল্লেখ করা হয়েছে- তিন ফসলি জমিতে তামাক আবাদ নিষিদ্ধ এবং এক-দুই ফসলি জমিতে তা ধীরে ধীরে সীমিত করা হবে। এই বিধান বাস্তবায়ন হলে আমাদের এলাকায় তামাক আবাদ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়বে। এতে আমাদের উপার্জন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।’

প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন হলে জীবিকা সংকটে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে কৃষকরা বলেন, এতে তামাক চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে হাজারো কৃষক ও তাদের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী মানুষের আয়ের ওপর। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শ্রমনির্ভর মানুষের আয় মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

চাষিদের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, মানিকগঞ্জ ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে তামাক চাষ হয়ে আসছে। এই চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেক কৃষক, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সম্পৃক্ত। নতুন ভূমি অধ্যাদেশে জমির ব্যবহার নিয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব থাকায় তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

এতে বলা হয়, তামাক একটি চুক্তিভিত্তিক ফসল, যা কৃষককে নিশ্চিত আয় প্রদান করে। অন্যান্য ফসলের মতো এর দাম অনিয়ন্ত্রিতভাবে ওঠানামা করে না। সরকার নির্ধারিত দরের ভিত্তিতে কৃষকরা সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পান, কোনো মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তির প্রয়োজন হয় না। এ ধরনের সুবিধা অন্য কোনো ফসলে তারা পান না।

কৃষকরা বলেছেন, প্রয়োজনীয় আলোচনা ও পরামর্শ ছাড়া এ আইন প্রণয়ন হলে তা কৃষি খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার মো. শাহজাহান, মো.লিয়াকত আলী, মো. নুরুল ইসলাম প্রমুখ। সাটুরিয়া উপজেলার মো. পান্নু মিয়া, মো. সোনা মিয়া, মো. ইনাম আলী প্রমুখ। কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার চাষিদের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন নূরুল আমিন, রেজাউল করিম, আবু তাহের, শাহ আলম প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সংসদের প্রথম অধিবেশনে ড. ইউনূসসহ উপস্থিত ছিলেন যারা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন