বেশ কয়েকবছর ধরেই প্রেমের টানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে আসছে তরুণ তরুণীরা। এমনকি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন তারা। এবার প্রেমের টানে সূদুর চীন থেকে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার এক প্রেমিকার কাছে ছুটে এলেন লিউ সিলিয়ান নামে এক তরুণ। শুধু ছুটেই আসেননি করেছেন গোপালগঞ্জের তরুণী কে বিয়ে, করেছেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ। লিউ সিলিয়ান থেকে হয়েছেন মো. সাদিকুর রহমান।
রোববার গোপালগঞ্জের একটি আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে চীনা তরুণ লিউ সিলিয়ান ও শহরে নিচুপাড়া এলাকার আবুল হোসেন হাওলাদারের মেয়ে সীমা আক্তার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। চীনা জামাই পেয়ে খুশি সীমার পরিবার ও আত্মীয় স্বজনর। এদিকে প্রেমিক চীনা তরুণ লিউ সিলিয়ান কে দেখতে প্রতিনিয়ত সীমার বাড়ি ভীড় করছে প্রতিবেশী ও আশপাশের লোকজন। সীমা আক্তার ও চীনা তরুণ একে অপরের সঙ্গে কথা বলে অনুবাদক আ্যপসের মাধ্যমে।
জানা গেছে, প্রেমিক লিউ সিলিয়ানের সঙ্গে প্রেমিকা সীমা আক্তারের সঙ্গে চার মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয়। এরপর দুজনেই জড়িয়ে পড়েন একে অপরের ভালবাসায়। লিউ সিলিয়ান চীনের একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সীমাকে দেওয়া কথা রাখবে বলে দুই মাসের ছুটির আবেদন করেন। কিন্তু লিউ সিলিয়ানের কর্মস্থল তাকে ছুটি দেয়নি। কিন্তু প্রেমের কাছে কোনো বাঁধা টিকে না। তাই তো দুই মাস ছুটি না পেয়ে শেষমেশ চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে আসার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন চীনা তরুণ ।
গত বৃহস্পতিবার রাত ২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন লিউ সিলিয়ান। পরে লিউ সিলিয়ান ওঠেন ঢাকার একটি আবাসিক হোটেলে। খবর পেয়ে প্রেমিকার বাবা মো. আবুল হোসেন হাওলাদার নিজেই তাকে সেখান থেকে রিসিভ করে নিয়ে আসেন গোপালগঞ্জের নীচুপাড়া এলাকায়।
গত রোববার লিউ সিলিয়ান নিজের ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নাম রাখেন মো. সাদেকুর রহমান সানি। এরপর এফিডেভিট করে এবং কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে সীমাকে বিয়ে করেন। শুধু তাই নয়, একইদিন বিকালে ধর্মীয় রীতিনীতিতেও বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় তাদের।
সীমা আক্তার বলেন, ‘‘আমি খুবই খুশি। কারণ আমার ভালোবাসার মানুষ হাজার মাইল দূর থেকে এসেছে কেবল আমাকে বিয়ে করার জন্য। ও সত্যিই অনেক ভালো মনের মানুষ এবং আমাকে খুব ভালোবাসে।’’ সীমা আরো বলেন, ‘‘আমি জানতাম, ও যদি সত্যি ভালোবাসে, তাহলে আসবে। আর সেটা ও করেছে।
চীনা তরুণ লিউ সিলিয়ান বলেন, আমার আর সীমার পরিচয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আমার স্ত্রী খুব ভালো মনের মানুষ। আমি বিমানে করে বাংলাদেশে এসেছি সীমাকে বিয়ে করার জন্য। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে আমি আমার বৌ কে চীনে নি যাবো। ওই দেশে গিয়ে সীমার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে নিয়ে যাবো।
এখানকার খাবার সম্পর্কে লিউ সিলিয়ান বলেন, বাংলাদেশের খাবার খুবই সুস্বাদু। তবে আমি এ খাবারে অভস্ত্য নই। যার ফলে একটু কষ্ট হচ্ছে।
সীমার পরিবার জানায়, ‘‘প্রথমে আমরা একটু দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু ছেলেটির ব্যবহারে বুঝতে পেরেছি, সে সত্যিই ভালো মনের মানুষ।’’ এলাকাবাসীরাও তার সাহস ও ভালোবাসার গল্পে মুগ্ধ।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

