ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বহিরাগতদের হামলায় পণ্ড হয়ে গেছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে বহিরাগতদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করে। ফলে নির্ধারিত সময়েও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নগর বাউল জেমসের গান পরিবেশন করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত ৯টার পর, অনুষ্ঠানের শেষ দিনের সাংস্কৃতিক পর্ব চলাকালীন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, স্কুলটির ১৮৫ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে দুই দিনব্যাপী জমকালো আয়োজন করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত পর্বে রাত ১০টার দিকে মঞ্চে গান পরিবেশনের কথা ছিল নগর বাউল জেমসের। এ খবরে দূরদূরান্ত থেকে মাইক্রোবাসযোগে বহু মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। তবে অনুষ্ঠানটি উন্মুক্ত না হওয়ায় বহিরাগতরা বাইরে অবস্থান করেন।
একপর্যায়ে বহিরাগতরা অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইটপাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে কয়েকজন বহিরাগত সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা তাদের ধরে মারধর করে। এরপর বহিরাগতরা আরও বেপরোয়া হয়ে অনবরত ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে অনুষ্ঠানস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেয়। পরে শিক্ষার্থীদের সংঘবদ্ধ ধাওয়ায় হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, রাত ৯টার দিকে র্যাফেল ড্র চলাকালীন হঠাৎ বাইরে থেকে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে অনেকে আহত হন এবং অনুষ্ঠানের মনিটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভেঙে যায়। তারা এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেও দায়ী করেন।
একজন সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলাম। প্রায় সাড়ে চার হাজার নিবন্ধিত প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। জেমস আসবেন—এই খবর পেয়ে বহিরাগতরা হামলা চালায়। অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আমরা দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরেছি, কিন্তু পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে।”
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ১৮৫ বর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান শামীম অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামছুল আজমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল কেটে দেন।
পড়ুন : ৮ দফা দাবিতে ফরিদপুরে কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জন ও শাটডাউন


