ফরিদপুর–৪ আসনে নির্বাচনি উত্তাপ এখন চরমে। বহু বছর ধরে আওয়ামী লীগ–নির্ভর এই আসনে এবারের ভোটযুদ্ধ সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তৈরি করেছে।
বিএনপির শহিদুল ইসলাম বাবুল ও জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন দুই অভিজ্ঞ প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। যদিও স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন, তবে নতুন হওয়ায় তারা মূল লড়াইয়ের বাইরে। তারপরও শেষ মুহূর্তে ভোট কেটে নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না কেউই।
জামায়াতের সরোয়ার: মাঠের রাজনীতিতে অভিজ্ঞ, সংগঠনে শক্ত অবস্থানভাঙ্গা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা সরোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন এলাকায় সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। ফলে মাঠ পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্য বলে জানান স্থানীয়রা।
মাওলানা সরোয়ার বলেন, মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছি। ভোটাররা সে কাজের মূল্যায়ন করবেন বলে আমি আশাবাদী।
চরভদ্রাসন, সদরপুর ও ভাঙ্গা এই তিন উপজেলাজুড়ে তার সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী বিশেষ করে ভাঙ্গায় তার ঘাঁটিকে সবচেয়ে শক্ত বলে মনে করেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
বিএনপির বাবুল: আ.লীগের ভাঙন ধরেই সুবিধাজনক অবস্থানে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অসন্তুষ্ট অংশকে নিজের দিকে টানতে সক্ষম হয়েছেন। নিক্সন চৌধুরী ও কাজী জাফর উল্যাহর অনুসারী বহু ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতা এখন প্রকাশ্যে ধানের শীষের প্রচারে মাঠে।
বাবুল বলেন দলের জন্য যে লড়াই করেছি, এত নিপীড়ন কেউ ভোগ করেনি। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের জন্য আমাকে ১২৮ বার কারাবরণ করতে হয়েছে।
তার এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সদরপুর উপজেলায় বিএনপির প্রভাব স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে যা শেষ মুহূর্তে বাবুলকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীনতুন মুখ হলেও ভোট কাটতে পারেন
ফুটবল ও ঘোড়া প্রতীক নিয়ে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। সামাজিকভাবে সক্রিয় হলেও নির্বাচনের মূল পাল্লায় তারা নতুন। বিশ্লেষকদের মতে, তারা যেকোনো একটি পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভোট কেটে নিতে পারেন, যা ঘনিষ্ঠ লড়াইয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
তিন উপজেলায় ভিন্ন ছবি ফরিদপুর–৪ আসনজুড়ে ভোটের চিত্র এক নয় ভাঙ্গায় সরোয়ারের ঘাঁটি খুবই দৃঢ়
সদরপুরে বিএনপির উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বাড়ছেচরভদ্রাসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তবে মূল ভোট ব্যাংক এখনও বাবুল ও সরোয়ারের নিয়ন্ত্রণেই
ফরিদপুর–৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫১ হাজারের বেশি।
এই বিপুল ভোটারকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা যত বাড়ছে, ততই জটিল হচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ।


