বিজ্ঞাপন

ফাইলেই আটকে আছে খুলনা জিয়া হল কমপ্লেক্স প্রকল্প

খুলনা মহানগরের প্রাণকেন্দ্র শিববাড়ি মোড়ের ঐতিহ্যবাহী ‘জিয়া হল’—একসময় সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র—এখন শুধুই স্মৃতি। দীর্ঘদিন ব্যবহারের বাইরে থাকার পর ভেঙে ফেলা হয়েছে স্থাপনাটি, আর নতুন করে আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগও আটকে আছে ফাইলে। ফলে আধুনিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খুলনাবাসী।

বিজ্ঞাপন

খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘খুলনা জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্পের একটি ডিপিপি গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনো অনুমোদন পায়নি। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি নেই।

ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনার নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৭৮ সালের ১২ জানুয়ারি। পরবর্তীতে নানা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ১৯৯২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এটি উদ্বোধন করেন। এরপর বিভিন্ন সময় নাম পরিবর্তনসহ নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে জিয়া হল। একপর্যায়ে ২০১২ সাল থেকে এর ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায় এবং ২০২১ সালের শেষ দিকে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়।

প্রস্তাবিত নতুন কমপ্লেক্সটি হবে নয়তলা বিশিষ্ট বহুমুখী ভবন। এতে থাকবে আধুনিক পার্কিং ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ সড়ক, বাণিজ্যিক স্পেস, সভা-সেমিনার ও কনফারেন্স হল, সিনে কমপ্লেক্স, রেস্টুরেন্ট, স্পা ও রেস্ট হাউসসহ নানা সুবিধা। প্রকল্পের সম্ভাব্য মেয়াদ ধরা হয়েছে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

নগরীর নাগরিক নেতারা বলছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে স্বল্প খরচে সভা-সেমিনারের জন্য মানসম্মত জায়গা পাওয়া যাবে, পাশাপাশি শহরের বাণিজ্যিক ও সামাজিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে। তাদের মতে, রাজনৈতিক বিতর্ক নয়—এখন প্রয়োজন দ্রুত বাস্তবায়ন।

কেসিসির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার বলেন, “জিয়া হল ছিল খুলনার ঐতিহ্যের অংশ। এখানে আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মিত হলে নগরীর চেহারাই বদলে যাবে।”
একইসঙ্গে প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান জানান, “জিয়া হল বন্ধ থাকার কারণে নগরবাসী বিশেষ করে সভা-সেমিনারের উপযুক্ত স্থান থেকে বঞ্চিত। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে এসব সমস্যার সমাধান হবে।”

কেসিসির কর্মকর্তারা আশাবাদী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আসন্ন সভায় প্রকল্পটি আলোচনায় আসতে পারে। তবে দ্রুত অনুমোদন না মিললে আধুনিক নগর সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার এই পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

পড়ুন- পাকিস্তানের রাজধানীতে সব গণপরিবহনের ভাড়া ফ্রি ঘোষণা

দেখুন- পারস্য উপসাগরে আটকা ২ হাজারের বেশি জাহাজ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন