সিঙ্গাপুরে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে প্রেসিডেন্টের অফিস পর্যন্ত একটি পদযাত্রার আয়োজন করা তিন নারীকে খালাস দিয়েছে আদালত।
বিবিসি জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বেআইনি মিছিল আয়োজনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে বিচারক রায় দেন, তাদের কাজ পুরোপুরি সেই অভিযোগের আওতায় পড়ে না।
এই নারীদের একজন বিবিসিকে বলেন, ‘এই অপ্রত্যাশিত খালাস সিঙ্গাপুরে অধিকারকর্মীদের জন্য নতুন শক্তি ও আশার উৎস হতে পারে।’
সিঙ্গাপুরে প্রতিবাদ কর্মসূচি খুবই বিরল। কারণ দেশটিতে প্রতিবাদ নিষিদ্ধ এবং যেকোনো ইস্যুভিত্তিক জমায়েতের জন্য পুলিশের অনুমতি বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধসংক্রান্ত যেকোনো জনসমাবেশ কার্যত নিষিদ্ধ।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন ইস্যুতে জমায়েত জনশৃঙ্খলার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সমালোচকরা বলেন, এই ধরনের কঠোর নীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক আন্দোলন দমিয়ে রাখে।
এ মামলাটি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত একটি ইভেন্টকে কেন্দ্র করে, যেখানে মোসাম্মদ সোবিকুন নাহার, সিতি আমিরাহ মোহাম্মদ আসরোরি এবং কোকিলা আন্নামালাই নামে তিনজন নারী প্রেসিডেন্টের দপ্তরের দিকে হাঁটার আয়োজন করেন। প্রায় ৭০ জন এতে অংশ নেন।
অনলাইনে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীরা তরমুজের নকশা আঁকা ছাতা বহন করছিলেন, যা ফিলিস্তিনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তাদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের দপ্তর সংলগ্ন একটি নিষিদ্ধ এলাকাতে অনুমতি ছাড়া মিছিল আয়োজনের অভিযোগ আনা হয়।
তবে বিচারক রায়ে বলেন, তারা যদিও একটি মিছিল আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু তাদের ধারণাও ছিল না, সেই রুটটি নিষিদ্ধ। কারণ তারা পাবলিক রোড ব্যবহার করেছেন এবং নিষিদ্ধ এলাকা চিহ্নিত এমন কোনো সাইনও ছিল না।
রায়ে বিচারক বলেন, ‘তারা স্পষ্টভাবেই আইন ভাঙার চেষ্টা না করে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন।’
বিবিসি জানায়, দোষী সাব্যস্ত হলে প্রত্যেকের ১০,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা অথবা ছয় মাসের জেল অথবা উভয় সাজা হতে পারত।
এ বিষয়ে আন্নামালাই বিবিসিকে বলেন, ‘আমি পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম দোষী সাব্যস্ত হওয়ার জন্য। রায়টা আমাদের কাছে বিস্ময় ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে একে উদযাপন করাও কঠিন, কারণ আমাদের আদৌ অভিযুক্ত করা উচিত হয়নি। তারপরও, এই রায় আন্দোলনে নতুন উদ্দীপনা ও আশা জোগাবে বলে বিশ্বাস করি।’
তবে সিঙ্গাপুরের প্রসিকিউশন বিভাগ বিবিসিকে জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
এরই মধ্যে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ নিয়ে সিঙ্গাপুরে অনলাইন ও অফলাইনে আয়োজিত অন্যান্য ইভেন্ট নিয়েও তদন্ত চলছে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

