বেশ কিছুদিন ধরেই আমেরিকায় বসবাসরত অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো ও বিদেশী শিক্ষার্থীদের ভিসা বন্ধ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। এর মাঝেই খবর এলো চলতি বছরে এ পর্যন্ত ১০৮০ ভারতীয় নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকায় বসবাসের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ মে) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বলেছিলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলে অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করবেন। ক্ষমতায় এসেই সেই অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কমপক্ষে ১০৮০ জন ভারতীয় নাগরিককে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন অবৈধভাবে বসবাসকারী।
ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপে শুরুর দিকে কয়েক দফা হাতকড়া ও পায়ে শিকল বেঁধে ভারতীয়দের ফেরত পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে তখন দেশটির পার্লামেন্টসহ নেটিজেনদের মধ্যে চলে তুমুল বিতর্ক।
তবে এবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করছে ভারত। রণধীর আরো বলেন, ‘অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা অথবা অবৈধ উপায়ে সেখানে প্রবেশ করা ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার থেকে তাদের বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর আমরা তাদের ফিরিয়ে আনি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ‘২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে প্রায় ১০৮০ জন ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশই বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফিরেছেন।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসন ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে চলমান বিতর্ক নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জয়সওয়াল। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের সম্প্রতি আন্তার্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার স্বাক্ষাৎকার স্থগিতের বিষয়েও বলেছেন তিনি।
তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে ভারত সরকার অবগত এবং যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী ভিসা ও এক্সচেঞ্জ ভিসা প্রার্থীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ভারত সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সব পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করব।’
জয়সওয়াল বলেন, ‘যদিও ভিসা প্রদান একটি সার্বভৌম বিষয়, তবুও আমরা আশা করি, যোগ্যতার ভিত্তিতে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসার আবেদন বিবেচনা করা হবে এবং তারা সময়মতো তাদের অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রামে যোগদান করতে পারবেন। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ট্রাম্প প্রশাসন সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই-বাছাই জোরদার করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ কারণে বুধবার বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলোকে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নতুন সাক্ষাৎকারের সময়সূচী না দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
এনএ/


