১৪/০১/২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
17 C
Dhaka
১৪/০১/২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ফের মেঘনায় বালু উত্তোলনের মহোৎসব : ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী

শরীয়তপুর গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের চারদিকে নদী বেষ্টিত এলাকা। সড়কপথে সেখানে পৌঁছানোর কোনো ব্যবস্থা নেই, একমাত্র নৌযানই যাতায়াতের মাধ্যম। এর ফলে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্রের জন্য এটি সুবিধাজনক জায়গায় পরিণত হয়েছে।

রাত বাড়লেই ঠান্ডার বাজার এলাকায় মেঘনা শুরু হয় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কর্মযজ্ঞ। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত নদীর বুক চিরে চলে এই তৎপরতা, আর দিনের আলো ফোটার আগেই চক্রটি গায়েব হয়ে যায়। নদী থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে কোদালপুর ইউনিয়ন ঠান্ডা বাজার ও এর আশপাশের চর এলাকার প্রায় ১০০ একর জমি বিলীন হয়ে গেছে।এতে তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ধসে যাচ্ছে, বাড়ছে ভাঙনের ঝুঁকি।

বিজ্ঞাপন


স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘নদীর পাড় ঘেঁষে বালু উত্তোলন করার কারনে বসবাসরত মানুষের মনে আতঙ্ক-আজ না হয় কাল, তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি সব নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে।’ এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য আপনারা কাজ করেন আমার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করবো।

কোদালপুর ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, বালু খেকোদের লাগামহীন দৌরাত্ম্যে এলাকার কৃষিজমি ও বসতভিটা হারিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বালু উত্তোলনকারীরা কার্যক্রম বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর প্রায় তিনমাস কাজ বন্ধ ছিল, তবে তিন সপ্তাহ ধরে আবারও শুরু হয়েছে রাতভর বালু উত্তোলন।


তারা আরও জানান, বালু খেকোরা বাল্কহেডগুলো দিনের বেলায় কোদালপুর ও কুচাইপট্রি ইউনিয়নরে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ও পট্রি লঞ্চ ঘাটে রাখে।এছাড়াও পার্শ্ববর্তী চরজালালপুর ও ঠান্ডার বাজার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার লুকিয়ে রাখা হয়।

বালুবাহী বাল্কহেডগুলো পার্শবর্তী ডামুড্যা উপজেলা থেকে জয়ন্তী নদীর পট্রি ব্রিজের লঞ্চঘাট ও কুচাইপট্রি ব্রিজের নিচ দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়।

বালু উত্তোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিতে গেলে বা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের অবগত করলে তাদেরকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। ফলে আতঙ্কিত হয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে এই অপরাধে নিয়মিত মামলা হয়েছিল। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযুক্ত কয়েকজনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

নরশিংহপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াছিনুল হক বলেন, কোদালপুরে বালু উঠানোর বিষয়টি আমি জানিনা খোঁজখবর নিতেছি।

কোদালপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মতিন খান বলেন , ‘প্রতিদিন বালু উত্তোলন করার বিষয় ইউএনও সাব জানে।আমিও তাকে জানিয়েছি অভিযানে করবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাব্বির সাজ্জাদ বলেন, ‘আমি সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি।শিগগিরই এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পড়ুন : শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে কতিপয় সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন