জার্মান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মানব পাচারকারী শেখ বাদল আহম্মেদের বিরুদ্ধে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের দোসর ডিবি হারুনের ঘনিষ্ঠ শেখ বাদল গুলশান এলাকায় ফ্ল্যাট কিনে বর্তমানে সেখানে বসেই সরকার বিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়ের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মানব পাচারকারী শেখ বাদল আহম্মেদ। কৌশলে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউর বাসার আসপাশের ১৮ কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট কিনে সেখানেই দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার কয়েকজন সহযোগী।
ফ্যাসিস্ট হাসিনা পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের ঘনিষ্ঠ শেখ বাদল রাজনৈতিক বোল পাল্টিয়ে এখন বনে গেছে ঢাকার স্ব-ঘোষিত ‘ডন’। গ্রেফতার এড়িয়ে তিনি পর্দার আড়ালে থেকে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ রাম রাজত্ব। জার্মান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদল একাধিক মামলার আসামি হয়েও কালো গ্লাসের দামী গাড়িতে চড়ে দাবিয়ে বেড়াচ্ছেন গুলশান ও উত্তরা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় ও ডিবি হারুনের ঘনিষ্ঠ হওয়ার দরুণ প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ ভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন শত কোটি টাকা। নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। উত্তরা ও খুলনাতে রয়েছে তার একাধিক বাড়ী। গত কয়েকমাস আগে গুলশানের মতো জায়গায় কয়েক কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন লাক্সারিয়াস ফ্ল্যাট। অবৈধ ভাবে কামানো টাকার পরিমাণ ও তার আয়ের সঠিক উৎস এখনো জানে না সরকার। কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এখনো রয়েছেন তিনি বহাল তবিয়তে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার পরিচিতরা বলছেন, শেখ বাদলের রয়েছে অবৈধ নামে বেনামে অঢেল সম্পদ, তাকে আইনের আওতায় আনা খুবই দরকার সেই সাথে তাকে দুদকের আওতায় আনা খুবই জরুরি। এ বিষয়ে জন শ্রুতি রয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পর সজিব ওয়াজেদ জয় ও ডিবি হারুনের ঘনিষ্ঠ শেখ বাদল বোল পাল্টিয়ে নিজেকে বিএনপির ডোনার বলে গুজুব ছড়িয়ে নিজেকে জাহির করছেন। গ্রেফতার এড়িয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি তলে তলে শেখ হাসিনারকে দেশে ফেরাতে কাজ করছেন। অভিযোগ রয়েছে শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা এনে সেই টাকা খরচ করে কিশোর গ্যাং এর মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
অনেকে বলছেন কি কারণে, কোন অদৃশ্য শক্তির বলে পলাতক খুনি হাসিনার দোসর শেখ বাদলের মতো জঘন্য একজন ব্যাক্তি এখনো গ্রেফতার হয় নি। অনেকে বলছেন পুলিশের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাব শালীদের ম্যানেজ করে তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রশাসন ও দুদক কর্মকর্তাদেরকে এ সব বিষয় খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, জার্মান আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শেখ বাদলের পেটোয়া বাহিনীরা এখনো উত্তরার অনেক জায়গায় চুরি ছিনতাই ও দখল বাণিজ্য সরব রয়েছে, শেখ বাদলের নির্দেশে কিশোর গ্যাং সদস্যরা উত্তরার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে তুলছে। বাদলের নির্দেশে কিশোর গ্যাং সদস্যরা খুন ধর্ষণ, চুরি ছিনতাই ও দখল বাণিজ্যের মাধ্যমে এ বাহিনী মানুষের মাঝে আতংক সৃষ্টি করে এখনো রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
জানা যায়, ছাত্র হত্যার একাধিক মামলার আসামি শেখ বাদল গা ডাকা দিলে ও এখনো তার ইশারায় চলছে সারাদেশে সিন্ডিকেট বানিজ্য।প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শেখ বাদল ফ্যাসিস খুনি হাসিনার একজন দোসর হয়েও দাবিয়ে বেড়াচ্ছে উত্তরা ও গুলশান এলাকায়। খুনি হাসিনার দোসর শেখ বাদল বর্তমানে গা ঢাকা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, কোটা সংস্কার আন্দোলন দমাতে আওয়ামী লীগের পক্ষে পুরো উত্তরায় অবস্থান নিয়ে উত্তরা আজমপুর ও জমজম টাওয়ার এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন এই বাদল। শেখ বাদল তৎকালীন সময়ে সাবেক আওয়ামী লীগের তথ্য উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের প্রভাব খাটিয়ে মানব পাচারে যুক্ত ছিলেন। মানব পাচারে তিনি একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে জোর পূর্বক নারীদেরকে লোভ দেখিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে বাধ্য করাতেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মানব পাচার মামলা,এদের মধ্যে আলোচিত কয়েকটি মামলায় তার সাজা হলেও মোটা অংকের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মামলার কার্যক্রম ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শেখ বাদল আহম্মদের বিরুদ্ধে। এ সব অপকর্ম প্রতিরোধ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা শেখ বাদলকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
পড়ুন : শিক্ষায় প্রতারণা, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ


