জামালপুরের বকশীগঞ্জে ক্লাস চলাকালে স্কুল মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশের উচ্চ শব্দে আশপাশের দু’টি স্কুলের শ্রেণিকক্ষের পাঠ কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে বকশীগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বকশীগঞ্জ নুর মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশের আয়োজন চলে।
দুপুর ২টার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।
সাড়ে ১১টার দিকে মাইকের শব্দ শুরু হলে কোনোরকম দু’টি পিরিয়ড চললেও উভয় স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরে বাধ্য হয়ে চলে যায়।
বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দলীয় প্রচার-সমাবেশের আয়োজন করায় এলাকায় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
নুর মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশীদ বলেন, “ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে মাঠ ব্যবহারের জন্য গতকাল আবেদন আসে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেন। কিন্তু সকাল সাড়ে ১১টার দিকেই মাইক বাজানো শুরু হয়। শব্দ দূষণের কারণে কোনোরকমে দু’টি ক্লাস নিতে পেরেছি। পরে শিক্ষার্থীরা চলে যায়।”
মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মর্জিনা চৌধুরীও অনুরূপ কথা জানান। তিনি বলেন, “কিছু বলার নাই। ছোট ছোট বাচ্চারা এই শব্দের মধ্যে কীভাবে ক্লাস করবে?”
ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. মুসায়রা জানায়, “মাইকের শব্দের জন্য ক্লাস করতে পারিনি।”
উল্লেখ্য, জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসনের হাতপাখার প্রার্থী আব্দুর রউফ তালুকদারের সমর্থনে উপজেলা ইসলামী আন্দোলন এ জনসভার আয়োজন করে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জামালপুর-১ আসনের হাতপাখার নির্বাচন সমন্বয়কারী মুফতি হামিদুল ইসলাম বলেন, “এ উপজেলায় সরকারি কোনো মাঠ নেই। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই এখানে সমাবেশের আয়োজন করেছি।”
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নুর মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী মুঠোফোনে বলেন, “আচরণবিধিতে আছে কিনা—বিষয়টি দেখার জন্য সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বলেছি।”
পড়ুন- আখাউড়ায় র্যাবের অভিযানে ৭২ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস জব্দ


