বগুড়ায় অপহরণের দুই ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে মিজানুর রহমান আরিফকে (৩৮)। তিনি সদর উপজেলার ফাঁপোর ইউনিয়নের শহর দিঘী এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ক্যামেরাম্যান। আরিফ এর আগে বাংলা টিভি, মাছরাঙা টিভিসহ দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার পর আরিফের স্ত্রী বাদী হয়ে সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে আরিফ বগুড়া শহরের খোকন পার্কে বসে ছিলেন। এ সময় চেলোপাড়া সান্দারপট্টি এলাকার শের আলীর ছেলে নায়েব আলী (৩২) ও মৃত হান্নানের ছেলে আরাফাত (২৮) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৭ জন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। এরপর তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা।
পরবর্তীতে সাবগ্রামের ২য় বাইপাস এলাকায় নিয়ে গিয়ে তারা আরিফের পরিবারের কাছে ছয় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ঘটনা জানাজানি হলে বগুড়ার সাংবাদিকরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজখুঁজি শুরু করেন এবং চেলোপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর পরিমল চন্দ্র দাসকে অবগত করেন। পরে তিনি অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আরিফকে একটি সিএনজিযোগে চেলোপাড়া সান্দারপট্টির লাশঘরের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে সাংবাদিকরা আরিফকে উদ্ধার করে সদর থানায় নিয়ে আসেন এবং মামলা করার পরামর্শ দেন। বর্তমানে আরিফ গুরুতর আহত অবস্থায় বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আরিফকে মারধরের সময় তাঁরা বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাঁদের ওপরও চড়াও হয় এবং বলে, “এই ব্যক্তি একজন অপরাধী। তাকে শায়েস্তা করার দায়িত্ব আমাদের। পুলিশ নয়, পুলিশই আমাদের কাছে আসে।”
এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান বাসির বলেন, “মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পড়ুন : গোপালগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে বগুড়ায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল


