বগুড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের উপস্থিতিতে সমন্বয় সভা চলাকালে সভাস্থলের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বগুড়া জেলা পরিষদ চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
জেলা পরিষদের পেছন সংলগ্ন ভবন থেকে নিক্ষেপ করা তিনটি ককটেলের মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও এনসিপি’র সভায় কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হয়নি। ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন দল ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। পুলিশ অবিস্ফোরিত দুইটি ককটেল উদ্ধার করে নিস্ক্রিয় করার জন্য পানি ভর্তি বালতিতে রেখে দিয়েছে।
এনসিপি’র জেলা সমন্বয় সভার আগে বেলা পৌনে তিনটার দিকে শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ সংলগ্ন এনসিপি’র অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন করেন সারজিস আলম। এসময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, “মানুষ এখনো জুলাই অভ্যুত্থানের কথা শুনলে শিউরে ওঠে। এই দেশের মানুষের সামনে নতুন করে কেউ স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারবে না। যদি জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি, বিচারিক প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হয় এবং নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করে, তাহলে ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিগত সময়ে বিএনপি যখনই সরকার গঠন করেছে, তা জোট সরকারের মাধ্যমেই করেছে। জামায়াতও কখনো শক্তিশালীভাবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেনি। আমরা মনে করি, আগামীতে আওয়ামী লীগ ও আধিপত্যবাদের প্রশ্নে বিএনপি বা জামায়াত কেউ এককভাবে দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারবে না। এই জায়গায় এনসিপি’র রাজপথে ও সংসদে শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন।” “আগামী প্রজন্ম যদি সংসদে প্রতিনিধিত্ব না করে, তাহলে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। যারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও খুনিদের বিচারের জন্য কাজ করবে, তাদের সঙ্গে এনসিপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।”
কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাকিব মাহাদীর সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। এদিকে এনসিপি’র সমন্বয় সভার বাইরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় এনসিপি নেতারা দাবি করেছেন, পুলিশের কাছে বারবার নিরাপত্তা চাওয়া হলেও পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়নি। যার কারণে সভাস্থল লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
তবে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, “জেলা পরিষদ চারদিকে নিরাপত্তা দেয়ালঘেরা। এর ভিতরে সভা চলছিল। পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ জেলা পরিষদের প্রধান গেটে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিল। জেলা পরিষদের পেছন সংলগ্ন ভবন থেকে কে বা কারা তিনটি ককটেল নিক্ষেপ করে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।” সভা শেষে সারজিস আলম নিরাপদে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করেন।


