বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ ধুনট থানার তৎকালীন ওসি কৃপা সিন্দু বালার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। বুধবার (আজ) বিকেলে ট্রাইব্যুনালের বিচারক জিয়া উদ্দিন মাহমুদ এই আদেশ দেন। বর্তমানে কৃপা সিন্দু বালা গাজীপুর শিল্প পুলিশে কর্মরত আছেন।
বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২–এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ধুনট উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলার আলামত নষ্ট করার অভিযোগে আদালত ওসি কৃপা সিন্দু বালার বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করেছেন।
পিপি আরও জানান, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা-মা দুজনই কলেজের প্রভাষক। তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে ওই শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনাটি প্রকাশ পেলে কিশোরীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন ওসি কৃপা সিন্দু বালা।
অভিযোগ রয়েছে, ধর্ষণের আলামত হিসেবে উদ্ধার হওয়া ভিডিও ফুটেজ মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে গায়েব করে দেন তিনি এবং পরে আদালতে অসম্পূর্ণ চার্জশিট দাখিল করেন। এ কারণে ভুক্তভোগীর মা আদালতে মামলাটি ‘নারাজি’ হিসেবে আবেদন করেন। আদালত পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়ে মামলাটি বগুড়া পিবিআইকে হস্তান্তর করেন।
পরে পিবিআইয়ের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন মামলাটির তদন্তভার পান। তদন্ত শেষে তিনি মূল আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এবং ওসি কৃপা সিন্দু বালার বিরুদ্ধে আলামত ধ্বংসের অভিযোগ এনে চার্জশিট দাখিল করেন। আজ (বুধবার) আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে কৃপা সিন্দু বালার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২ আগস্ট ধর্ষিত কিশোরীর মা বগুড়া পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, তদন্ত চলাকালে তদন্ত কর্মকর্তা আসামি মুরাদুজ্জামান মুকুলকে গ্রেপ্তার করে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ ধর্ষণের ভিডিও জব্দ করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা ভুক্তভোগীর মাকে ভিডিওগুলো দেখিয়ে জানান যে এগুলো সিডি আকারে তৈরি করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, তিনি ফরেনসিকে শুধু দুইটি মোবাইল ফোন পাঠিয়েছেন—ভিডিওর সিডি পাঠাননি। এতে গুরুত্বপূর্ণ আলামত ধ্বংস হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর মা।
তার দাবি, তদন্ত কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে মূল আসামিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন এবং চার্জশিটে ভিডিও সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছেন। তিনি আরও বলেন, “আমাদের সামনে তিনি যেসব ভিডিও দেখিয়েছিলেন, সেখানে আমার মেয়ের সঙ্গে আসামির অশ্লীল ভিডিও ছাড়াও আরও কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে তোলা অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ছিল।”
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

