বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগ থাকলেও ভোট বর্জন না করে শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে চান।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে শহরের জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে অরাজক পরিস্থিতি ও প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রশাসন সরকারি দলের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাদের সমর্থিত ব্যক্তিদের প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
এ ছাড়া মালতীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পিটিআই স্কুল কেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।
জামায়াত প্রার্থীর দাবি, ইয়াকুবিয়া স্কুল ও পিটিআই নার্সারি স্কুলসহ প্রায় ৫০টি কেন্দ্রে আগেই ব্যালট পেপারে সিল দেওয়া হয়েছে। নুনগোলা উচ্চ বিদ্যালয় ও ঝোপগাড়ী মাদ্রাসাসহ অন্তত ২০টি কেন্দ্র থেকে তাদের পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে সরকারি দলের সমর্থকদের মিছিল-মহড়া ও প্রকাশ্যে অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগ তোলা হয়। কিছু সরকারি কর্মকর্তা সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি কম হলেও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে। এসব অনিয়মের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
সবশেষে আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, আমরা ভোট বর্জন করব না। শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকে নির্বাচনে লড়াই চালিয়ে যাব এবং বিজয়ের প্রত্যাশা রাখি।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রার্থী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থীসহ মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

