বগুড়া সদর থানায় দায়িত্ব পালনরত সেকেন্ড অফিসারের ভূমিকা ও প্রভাব নিয়ে থানার অভ্যন্তরীণ মহলে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। একাধিক সূত্রের দাবি, থানার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ওই কর্মকর্তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য জানান, বিভিন্ন প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সেকেন্ড অফিসারের মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এমনকি কখনো কখনো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওই অফিসারের কক্ষে বসে অপেক্ষা করতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, বগুড়া সদর থানায় পাবনা জেলার বাসিন্দা পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় একটি প্রভাব বলয় তৈরি হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। এই বলয় থানার প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আলোচনার কেন্দ্রে থাকা সেকেন্ড অফিসার হলেন এসআই মোঃ জিয়াউর রহমান। অভিযোগের তালিকায় আরও যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন— এসআই মোঃ নজরুল ইসলাম, এএসআই মোঃ মোকলেছুর রহমান, কনস্টেবল মোঃ এমদাদুল হক, কনস্টেবল মোঃ ইন্নাত আলী এবং কনস্টেবল মোঃ আঃ মোমিন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক পুলিশ সদস্য অভিযোগ করে বলেন, এই ছয়জনকে ঘিরে একটি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে এবং ওই গোষ্ঠীর বাইরে থাকা সদস্যদের সঙ্গে সব সময় পেশাদার আচরণ বজায় রাখা হয় না।
জানা গেছে, এসআই মোঃ জিয়াউর রহমান প্রায় আট মাস আগে বগুড়া সদর থানায় যোগদান করেন। এদিকে এক আবাসিক হোটেল ম্যানেজার অভিযোগ করেন, সেকেন্ড অফিসার জিয়াউর রহমান বিভিন্ন আবাসিক হোটেল থেকে প্রতি মাসে অর্থ উত্তোলন করেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে এসআই মোঃ নজরুল ইসলাম একই জেলায় প্রায় চার বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু পুলিশ সদস্যকে বিনা কারণে ডিআইজি বরাবর অভিযোগের মুখে ফেলে অন্য জেলায় বদলি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাবনা জেলার বাসিন্দা পুলিশ সদস্যদের বগুড়া সদর থানায় নিয়ে আসার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বগুড়া সদর থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
সচেতন মহলের মতে, থানার অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বের ভারসাম্য নিশ্চিত না হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন।
পড়ুন: জয়পুরহাটে দুটি আসনে ১৪ প্রার্থীর মনোনয়ন সংগ্রহ
দেখুন: ঘরের চালায় ঢিল, চিৎকার করায় প্রবাসীর স্ত্রীকে হ/ত্যা |
ইম/


