আওয়ামী সরকারের ১৬ বছরে গুম হওয়ার প্রায় ১৮০০ অভিযোগ জমা পড়েছে গুম কমিশনে।
সেখানে আছে চট্টগ্রামের ছেলে তৌহিদুর রহমান সুমনের নাম। কিন্তু গুম হয়ে আবার জীবিত ফিরে আসা ৮১ শতাংশের মাঝে নেই তার নাম। আট বছর ধরে হন্য হয়ে হয়ে খুঁজেছেন, প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন তার ভাই-বোনেরা। তারা বলছেন অভিযুক্ত তারেক তৎকালীন এমপি মুস্তাফিজের ভাই হওয়ায় ন্যায় বিচারের বদলে সহ্য করতে হয়েছিল পুলিশ প্রশাসনের চোখ রাঙানি।
নিজ বাসা থেকে হেটে বের হয়ে আর ঘরে ফিরে আসেনি তৌহিদুর রহমান সুমন।
দিনটি ছিল ২০১৮ সালের ১৩ই জুন।
নগরীর ডি সি রোডের মোনাফ বিল্ডিং এর ষষ্ঠ তলায় চিলেকোটাই ব্যাচেলার থাকতো নিখোঁজ সুমন। ছিলেন একজন উদ্যোক্তা ও শেয়ার বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতির সাথেও যুক্ত ছিলেন এবং ছাত্রদলের একজন সাবেক পদধারী নেতা ছিলেন।
স্থানীয়রা গুম হওয়ার বিষয়ে কেউ মুখ খুলছে না, সুমন কে চিনলেও চিনছেনা অভিযুক্ত তারিকুর রহমানকে। বাড়িওয়ালার ছেলে জানাই নিজের চোখে তৌহিদুর রহমান সুমনের শেষবারের চলে যাওয়া দেখেছে সে।
তার বিষয়ে অনেক কথা বললেও এড়িয়ে যায় ঘটনার আগের দিনের হৈচৈ এর কথা।
তার বোনের ভাষ্যমতে এর কয়েকদিন আগে বাঁশখালীর এমপি মুস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাই তরিকুর রহমানের সাথে ঝামেলা হয়।
নিখোঁজ তৌহিদুর রহমান সুমন বোনকে জানিয়েছিল তার পিছে ছেলেপেলে লেলিয়ে দিয়ে হুমকি দিচ্ছিল তরিকুর রহমান। নিখোঁজের একদিন আগে এডভোকেট জাহাঙ্গীর তারেকের হয়ে বেশকিছু সন্ত্রাসী নিয়ে তার বাসায় গিয়েছিলো। খবর পেয়ে স্কুল শিক্ষিকা বোন ফেরদৌসি রহমান সেখানে ছুটে গেলেন। তারা তেমন কিছু হয়নি বলে সেদিন চলে যায় । ফেরদৌসি রহমান জানান তারা বাসা থেকে চলে গেলেও বাইরে ঘুরাঘুরি করতে দেখেন তিনি।
এর পরের দিন নিখোঁজ হয় সুমন।
নিখুঁজের দুদিন পর চকবাজার থানায় জিডি করতে গিয়ে পুলিশকে তারিকুর রহমানের হুমকির হুমকির বিষয়টি বললেও তার নাম জিডি থেকে বাদ দিতে বলেন তৎকালীন ওসি আবুল কালাম। বারবার থানায় গিয়েও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় গিয়েছিলেন তৎকালীন এডিসি আমেনা বেগমের কাছে। তিনি ফেরদৌসি রহমানকে নানাভাবে অপদস্ত করেন এবং একপর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। অফিসে বসিয়ে রাখেন প্রায় ৫ ঘন্টা। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ভাইয়ের খোঁজে প্রশাসন, মানবাধিকার সংগঠন ও সর্বশেষ বর্তমান সরকারের গঠিত গুম কমিশনেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে পাঁচই আগস্টের পর গুম হওয়া নানাজনের ফিরে আসার খবর শুনে লন্ডন থেকে ভাইয়ের খোঁজে ছুটে এসেছে মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন এখন তাদের ভাইকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা শেষ, তবে মৃত হলেও সন্ধান চাই আর চাই আর চাই অপরাধীদের শাস্তি।
মানবাধিকার মানবাধিকার সংগঠক, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব
জিয়া হাবিব বলেন বর্তমান সরকার তাদের ন্যায় বিচার দিতে গুম কমিশন করেছেন। তাদের ভাইকে ফিরে পেতে গুম কমিশন এগিয়ে আসবে বলে আশা প্রাকাশ করেন তিনি।
নিখোঁজ তৌহিদুর রহমান অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব, নাকি
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার? এ প্রশ্নের উত্তর নেই পরিবারের কাছে। তারা আজও অপেক্ষায়, ন্যায়বিচারের আশায়।
পড়ুন: তুহিন হত্যার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
দেখুন: মেডিকেল শিক্ষার্থীর আত্মহনন, পরিবারের দাবি হত্যা
ইম/


