নারায়ণগঞ্জের বন্দরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ওরফে মুক্তি কাসেম। শনিবার (১৬ আগস্ট ) সকল ৬.৩০ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে কামতাল গ্রামে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন তিনি। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।
দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে বন্দর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয় মুক্তিযুদ্ধা আবুল কাশেমকে। পরে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। গার্ড অব অনার প্রদানে উপস্থিত ছিলেন কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) জহিরুল ইসলাম সহ সঙ্গীয় ফোর্স।
রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা প্রদানের পূর্বে ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের আত্মত্যাগের কারণে আজকে আমরা একটি স্বাধীন দেশে বসবাস করছি।
তিনি আরো বলেন, দিন দিন আমরা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারিয়ে ফেলছি। আমরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখানে এসেছি তাদের সম্মান জানাতে। এসময় পরিবারের হাতে আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন তিনি। এসময় বন্দর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবদুল লতিফ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
কামতাল ডাকসমাজ কবরস্থান ময়দানে জানাযা নামাজ শেষে জাতীয় পতাকায় মুড়ে সেখানেই তাকে চিরনিদ্রায় দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে তার বীরত্বপূর্ণ অবদানের কথা বিভিন্ন বইয়ে উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় ভাবে লেখা নারায়ণগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস বইয়ে বন্দর উপজেলায় “অপারেশন লাঙ্গলবন্দ ব্রিজ” শিরোনামে তার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা সেখানে বলা হয়েছে। এ সময় একজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন আমাদের বন্দরে ১৭০ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তার মধ্যে এখন বেঁচে আছে ১০৮ জন অন্যরা সকলে এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে পরপারে চলে গিয়েছেন আমরা মুক্তিযোদ্ধারা যারা আছি তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই, এবং মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি আল্লাহতালা তাদেরকে যেন জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন।
পড়ুন : বন্দরে বকেয়া বেতনের দাবীতে মহাসড়ক গাছের গুড়ি ফেলে শ্রমিকদের অবরোধ, ১০ কি.মি যানজট


