বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস আদালতে পেশকার পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে মোশারফ বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তিকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
গতকাল রবিবার (১৮ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মোশারফ বিশ্বাস (৫৫) পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামাইয়া ইউনিয়নের মোসলেম বিশ্বাসের ছেলে। বর্তমানে তিনি বরগুনার আমতলী উপজেলার একে স্কুল রোড এলাকায় বসবাস করেন।
ভুক্তভোগী খাদিজা বেগম বরগুনার আমতলী পৌরসভার খোন্তাকাটা গ্রামের মৃত্যু আবুল হাওলাদারের খাদিজা বেগম স্ত্রী ।
খাদিজা বেগম অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিবেশী নুরু মিয়া তার ছেলে সজীবের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেন (মামলা নং ৩৫৭/১৭)। মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর জীবিকা নির্বাহে বিভিন্ন হোটেল ও বাসাবাড়িতে কাজ করতে শুরু করেন খাদিজা।
তিনি জানান, আমতলী বাসস্ট্যান্ডের চা দোকানদার রফিক বিশ্বাস তাকে বলেন, তার ভাই মোশারফ ঢাকায় পেশকার হিসেবে চাকরি করেন এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে দিতে পারবেন। এরপর খাদিজা মোশারফের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ৬০ হাজার টাকায় মামলা নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন এবং পরবর্তীতে ৭ হাজার টাকা দাবি করে মোট ৬৭ হাজার টাকা নেন।
গতকাল রোববার (১৮ মে) আদালতে মামলার তারিখ থাকায় সন্দেহ হলে খাদিজা মোশারফকে জিজ্ঞাসা করেন তিনি আদৌ পেশকার কিনা এবং মামলা কেন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। উত্তরে মোশারফ ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। পরে খাদিজা আদালতের এজলাসে গিয়ে পুরো ঘটনার সবার সাথে বিবরণ দেন। বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে মোশারফ বিশ্বাসকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আজ সোমবার (১৯ মে )গ্রে’প্তারের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি রঞ্জুনায়ারা শিপু বলেন, “মোশারফ একটি প্রতারক চক্রের সদস্য। এরা সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
বরগুনা সদর, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন,গতকাল তাকে আমাদের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে এ ধরনের আরও অভিযোগ রয়েছে “মোশারফ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা নেওয়া হয়েছে। তাকে আদালতে মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এনএ/


