বিজ্ঞাপন

বরগুনায় রহস্যজনকভাবে স্বামী স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ ইটবারিয়ার মোল্লা বাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে স্বামী স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এঘটনায় বরগুনা সদর থানা পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নেমেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী, স্বজন ও পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পারিবারিক কলহের জেরেই হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

নিহতরা হলেন- একই গ্রামের খালেক মোল্লার ছেলে দিনমজুর ৩২ বছর বয়সী স্বপন মোল্লা এবং তার স্ত্রী ২৭ বছর বয়সী দক্ষিণ ইটবাড়িয়া গ্রামের আব্বাস মৃধার মেয়ে আকলিমা। তাদের সংসারে দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে ৬ বছর বয়সী সাদিয়া এবং ছোট মেয়ে এক বছর বয়সী আফসানা।

স্বপন মোল্লা ও আকলিমা দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে আফসানার বয়স মাত্র একবছর। আর বড় মেয়ে সাদিয়া সেও এখনো কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি। মায়ের লাশের পাশে বসে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করছে আর বলছে মা তুমি এখনো ওঠো না কেন?

স্থানীয় এলাকাবাসী, স্বজন ও পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, রবিবার সকালে আকলিমার বড় মেয়ে সাদিয়া সকালে নিহত স্বপনের চাচাতো বোন রাজিয়া বেগমকে ডেকে আনলে স্বপন মোল্লার ঘরের ভেতরে আকলিমার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান তিনি। পরে ঘরের মধ্যেই স্বপনকে খোঁজাখুজির করে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বপনের মরদেহ এবং বিছানায় পড়ে থাকা আকলিমার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত স্বপনের চাচাত বোন রাজিয়া বেগম বলেন, ভোরে ওজু করার সময় সাদিয়া দৌড়ে এসে বলে, আম্মি মোগো ঘরে চলেন মা কথা বলে না। আব্বাকেও দেখি না। আমি ঘরে গিয়ে দেখি আকলিমার গলা কাটা রক্তমাখা লাশ মেঝেতে পড়ে আছে। এ সময় স্বপনকে খুঁজতে গিয়ে দেখি তার বিছানার ওপর মোবাইল পড়ে আছে। পরে দেখি ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো তার মরদেহ ঝুলছে।

স্বপনের বড় ভাই কবির মোল্লা বলেন, স্বপন নিয়মিত কাজ না করায় এ নিয়ে প্রায়ই স্ত্রীর সঙ্গে দ্ব›দ্ব ও ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকতো। আমার জানামতে ওর কোন শত্রু দেখি নাই। তারপরও সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে আসল ঘটনা বের করার দাবি জানাচ্ছি।

নিহত আকলিমার বাবা আব্বাস মৃধা বলেন, প্রায়ই ওদের ঘরে ঝগড়াঝাটির খবর পেতাম। আবার সবকিছু ঠিকঠাকও হয়ে যেতো। কিন্তু এবার কি হলো? আমার নাতনি দুইডার এহন কি হইবে?।

এএসএম সজিব নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, স্বপন ও আকলিমার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওরা না হয় মওে গিয়ে বেঁচে গেলো। কিন্তু ওদেও যে ফুটফুটে দুটো বাচ্চা সন্তান রয়েছে তাদের কি হবে? দুই শিশু কন্যার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেলো।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াকুব হোসাইন বলেন, আমরা আকলিমাকে গলাকাটা অবস্থা ও স্বপন মোল্লাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এটি হত্যা নাকি হত্যার পর আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম এন্ড অপস) জহিরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। এছাড়াও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) দুটি টিম ঘটনাস্থলে এসেছে তারাও বিষয়টি তদন্ত করছেন। এঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

পড়ুন: চাঁদপুর শহরে ফুটপাতে চিকেন চাপ বিক্রি করে মাসুমের ভাগ্য বদল

দেখুন: মানবতাবিরোধী অপরাধে ময়মনসিংহে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন