বরগুনার পাথরঘাটায় জামায়াতে ইসলামী-বিএনপির পাল্টাপাল্টি মামলায় গত ২৪ ঘন্টায় উভয় দলের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে পাথরঘাটা থানার ওসি যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানে আটককৃতরা হলো, পাথরঘাটা পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা বজলুর রহমান (৫০), রায়হানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: আবুল কালাম ওরফে গদি কালাম (৫৫), চরদুয়ানী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ওমরসানী (৩০) রয়েছে। এছাড়াও হৃদয় মোল্লা (১৯), ইমরান (১৮), এমদাদুল হক(৩০), মো: মুন্না (২৪), মো: নাসির চৌধুরী (৪৭), মো আব্দুর রহমান, তোহা ইব্রাহিম (২৪), মোঃ মোস্তফা হাওলাদার (৫৩), মোঃ নাসির শেখকে (২৫)।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সম্প্রতি পাথরঘাটায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছে।
গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বায়তুলমাল সম্পাদক নাসির উদ্দিনকে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করার অভিযোগে হামলা করে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিএনপি কর্মী নুর আলমের বিরুদ্ধে।
এর পরের দিন মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের খলিফারহাটের চৌরাস্তায় ৬ নম্বর ওয়ার্ড ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম বেপারী ও উপজেলা বিএনপির নির্বাচন কমিটির সদস্য সরোয়ার হোসেন ফারুকের সাথে একই অভিযোগে জামায়াত নেতাদের সাথে তর্ক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হয়। এঘটনায় উভয় দল পাথরঘাটা থানায় মামলা করেন।
বরগুনা-২ আসনের জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক শামীম হাসান বলেন, বিএনপি যাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে তারা নির্বিঘ্নে চলাফেরা ও নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছে। অথচ পুলিশ তাদের না ধরে জামায়াতের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। তিনি পৌর জামায়াতের আমিরকে আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে পাথরঘাটা থানার ওসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন। শামীম হাসান আরও বলেন, দুই দলকে ‘ব্যালেন্স’ করার নামে নিরীহ জামায়াত নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে। এসব ‘গ্রেপ্তার নাটক’ বন্ধ করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক চৌধুরী মো. ফারুক বলেন, রাতে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই নিরীহ পথচারী। যৌথবাহিনীর এমন আটকের ঘটনায় ভোটারদের মাঝেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এভাবে গণআটক বিএনপি সমর্থন করে না। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক ব্যক্তিদের দ্রæত ছেড়ে দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাথরঘাটার পরিবেশ শান্ত রাখতে ডিআইজি মহোদয়ের করা নির্দেশ রয়েছে। এজন্য পাথরঘাটায় অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি নৌবাহিনীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।


