বিজ্ঞাপন

বরগুনায় জ্বালানি তেলের অভাবে বন্ধ মাছ শিকার, জেলেদের মানববন্ধন

বরগুনায় জ্বালানি তেলের সংকট ও পাম্প থেকে কন্টেইনার বোতলে তেল না দেওয়ার কারণে বিপাকে পড়েছেন উপকূলের বিভিন্ন নদ নদীতে ছোট ছোট ট্রলারে মাছ শিকার করা জেলেরা। বিগত ১৫ দিন ধরে নদীতে যেতে পারছেন না তারা, ফলে জীবিকা নির্বাহে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এ অবস্থার প্রতিবাদে এবং দ্রুত পাম্প ও দোকানে জেলেদের জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেন ক্ষুব্ধ জেলেরা।

বিজ্ঞাপন

আজ মঙ্গলবার ( ৩১ মার্চ) সকাল ১১ টায় বরগুনা সদরের বদরখালী ইউনিয়নের বাওয়ালকর স্লুইজগেট এলাকায় সারি সারি ডিজেল চালিত নৌকায় এ মানববন্ধন করেন স্থানীয় জেলেরা।

এসময় বক্তারা বলেন, আমরা ঈদের পূর্ব থেকে তেল পাইনা। পাম্পে গেলে কন্টেইনার বোতলে তেল দিচ্ছেনা। ঈদের কয়েকদিন পূর্ব থেকে আমাদের মাছ শিকার বন্ধ থাকায় এখন অনাহারে দিন কাটছে। একদিকে দাদন আর অন্যদিকে এনজিও ঋনের কারনে আমরা দিশেহারা। অবিলম্বে পাম্প থেকে তেল না পেলে পরিবার পরিজন না খেয়ে থাকবে।

বিষখালী নদীতে প্রায় ৮০টির অধিক স্যালো ইঞ্জিন চালিত ছোট জেলে নৌকা রয়েছে। ওইসব নৌকায় ১৬০জন জেলে মাছ শিকার করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। তেল না পাওয়ায় এখন সবগুলো নৌকা একটি খালের মধ্যে নোঙ্গর করে রেখেছে জেলেরা। ফলে গত ১৫দিন ধরে মাছ শিকার করতে না পারায় দুর্বিসহ জীবনধারন করছে ওই এলাকার জেলে পরিবারগুলো।
এই চিত্র শুধু বাওয়ালকর এলাকার নয়। জ্বালানী সংকটে এমনি বন্ধ রয়েছে জেলার ৬টি উপজেলার পায়রা, বলেশ্বর আর বিষখালী নদী তীরের হাজার হাজার জেলে নৌকা।

বরগুনা জেলায় ৪৬ হাজার ৪২১জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। তাদের মধ্য ২৭ হাজার ২৫০জন সমূদ্রগামী জেলে। এছাড়াও জেলার নদনদীগুলোতে প্রায় ১০ হাজারের বেশী ছোট ছোট স্যালো ইঞ্জিন চালিত জেলে নৌকা রয়েছে।

বাওয়ালকর এলাকার জেলে মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমাদের ছোট বোটের জন্য আমরা পাম্পে গিয়ে তেল পাইনা। সব গাড়িতে তেল পায় ওরা গাড়ী নিয়া পাম্পে যেতে পারে, আমরা পারি না তাই তেলও পাইনা। পাম্প নিয়ম করছে কোন বোতলে তেল দিবে না। তাই তেল না থাকায় আমাদের বোটগুলো বন্ধ রয়েছে। আমরা নদীতে যেতে পারিনা। মাছ না ধরলে আমাদের ঘরে খাবারও জোটে না। এই ১৫ দিন ধরে আমরা খুব কস্টে দিন কাটাচ্ছি।

বাওয়ালকর এলাকার মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, আমার এলাকায় প্রায় ১৫০ জেলে রয়েছে। ডিজেলের অভাবে তারা এখন নদীতে মাছ ধরতে পারছে না। ছেলে মেয়ে নিয়ে জেলেরা এখন খুব কস্টে দিন কাটাচ্ছে। ছেলে মেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকছে। সরকারের উচিত জেলে কার্ড দেখিয়ে জেলেরা যাতে পাম্প থেকে তেল নিতে পারে সে ব্যবস্থা করে দেওয়া।

এব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসকের সাথে সমূদ্রগামী জেলেদের ট্রলার গুলোতে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে আলোচনা হয়েছে।
তবে তিনি আরো জানান, জেলার অভ্যন্তরীন নদনদীতে মাছ শিকারে নিয়োজিত ছোট ছোট স্যালো ইঞ্জিন চালিত ট্রলার গুলোর বিষয়ে কোন আলোচনা হয়নি। এব্যাপারে জেলাপ্রশাসকের সাথে আলোচনা করে অচিরেই তাদের ট্রলার গুলোতে তেল সরবরাহ করার ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

পড়ুন:ঝিনাইদহ রাস্তার পাশে হোটেলে বাসের ধাক্কা, প্রাণ গেল বাইসাইকেল আরোহীর

দেখুন:ফেরিতে উঠতে গিয়ে যাত্রীসহ বাস উল্টে পড়লো পদ্মায় 

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন