২৪/০২/২০২৬, ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ
19.3 C
Dhaka
২৪/০২/২০২৬, ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ: দেশের ইতিহাসে স্কুল পর্যায়ে সর্ববৃহৎ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শেষে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুরস্কার বিতরণী কার্যক্রম শেষ করেছে বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ-বিপিএসসি।

বিজ্ঞাপন

আয়োজকরা জানান, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান’এর চেতনাকে ধারণ করে আয়োজন করা হয়েছিল বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা ২০২৫। বিশিষ্ট চিত্রশিল্পীদের ভাষ্য, দেশের ইতিহাসে স্কুল পর্যায়ে এটি সর্ববৃহৎ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) নবরাত্রি হলে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

প্রধান অতিথি ও জুরিবোর্ডের প্রধান বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম বলেন, শিশুদের জন্য আজ এক বিশেষ দিন। একসঙ্গে এত শিশু ছবি আঁকবে এটা আমি ভাবতে পারিনি। এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। এই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সারাদেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে আমি মনে করি।

অতীতে চিত্রাঙ্কনকে অবহেলা করা হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আমরা এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে চিত্রশিল্পীদের জন্য পদ সৃজন করা হচ্ছে। শিল্পটি কাজ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সারাদেশ থেকে শিশু-কিশোরদের একত্র করে সুষ্ঠভাবে এমন চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য বসুন্ধরার চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবাল’র ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াশা সোবহান বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন শুধু একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান নয়। আজ আমরা একসঙ্গে উদযাপন করছি শিশুদের মন, তাদের কল্পনা, স্বপ্ন এবং সৃজনশীলতার শক্তিকে। এই আয়োজন আমাদের নুতন করে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে যে, যদি শিশুদের সুযোগ দেওয়া যায়, তাহলে তারা কত সুন্দরভাবে নিজেদের ভাবনা ও অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে।

প্রতিযোগিতায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে, এবং আমাদের শিখিয়েছে, কোনো সীমাবদ্ধতাই সৃজনশীলতার পথে বাধা হতে পারে না। আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই বসুন্ধরা গ্রুপের সম্মানিত চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহানকে।
তিনি সবসময় শিক্ষা, শিশু ও সমাজের কল্যাণে পাশে থাকেন। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা ও আন্তরিক উদ্যোগের কারণেই আজ দেশের এত বড় একটি শিল্পভিত্তিক আয়োজন সম্ভব হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষা ও সৎ প্রচেষ্টাই একটি সমাজকে বদলে দিতে পারে। প্রতিবছর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এমন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, এই আয়োজনটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি নিজেই একটি শিল্পকর্ম, একটি বিশ্বমানের সৃজনশীল ঘটনা। আজ যারা পুরস্কার পেয়েছে, সেই সব শিশু-কিশোরদের আমি হৃদয় থেকে অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই অভিভাবকদের। কারণ অভিভাবক সচেতন না হলে একটি শিশু কখনো সচেতন হয়ে উঠতে পারে না, শিল্পী হয়ে উঠতে পারে না।

জুরি বোর্ডের সদস্য একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী ড. ফরিদা জামান বলেন, ‘শিশুরা মুক্ত মন নিয়ে ভাবতে পারে, তাদের প্রকাশে কোনো জড়তা নেই। ভাষা বা অক্ষর ছাড়াই তারা রং, রেখা ও কল্পনার মাধ্যমে অনেক কথা বলে দেয়। আজ এই পুরস্কারের মাধ্যমে সেই সৃজনশীলতার স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। আমি বিশেষভাবে অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানাই। তাদের সহযোগিতা ছাড়া কোনো শিশুর এই ধরনের বিকাশ সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু ঢাকায় নয়, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। ছবি আঁকার মতো সৃজনশীল মাধ্যম শিশুদের সুন্দর চিন্তা ও মানবিক বোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের মাননীয় চেয়ারম্যান সাহেব যে দুটি বিষয় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান। এই দুই ঐতিহাসিক অধ্যায়কে একত্র করে আমাদের শিশুরা যে অসামান্য সৃজনশীলতা দেখিয়েছে, তার জন্য আমি তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

স্বাগত বক্তব্যে বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাননীয় অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান একজন হিতৈষী। যিনি হাজারো মাদরাসা শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন, শত শত শিক্ষককে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ সম্মানজনক পরিবেশে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন, হাজারো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করেছেন। খেলাধুলা, সংস্কৃতি, যোগব্যায়াম ও নৈতিক বিকাশের মাধ্যমে শিশু থেকে প্রবীণ, সব বয়সী মানুষের শারীরিক ও মানসিক উন্নয়নে যিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যও এখানে কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, বরং একজন মানবিক, নৈতিক ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলা। পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, খেলাধুলা, সৃজনশীল প্রতিযোগিতা ও নেতৃত্ব বিকাশের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

আয়োজনের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় সংগীত পরিবেশ ও প্রতিযোগিতা আয়োজনের একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অতিথিদের বক্তব্য দেওয়ার পর বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন জুরিবোর্ডের প্রধান বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম, সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবাল’র ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াশা সোবহান ও বসুন্ধরা পরিবারের সদস্য রানিয়া আফরোজা আকবর সোবহান ও শেহজাদ আকবর সোবহান। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মধ্যাহ্ন ভোজের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- শিল্পী মাহবুবুল হক, দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ ও কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলীসহ গণ্যমান্য শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বসুন্ধরা গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

গত ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ৫ হাজার ৮৭১ জন শিশু-কিশোর। তিন ক্যাটাগরিতে মোট ১৪৩ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীদের ক্রেস্ট দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পরিমাণের অর্থ মূল্য দেওয়া হয়।

তিন ক্যাটাগরির মধ্যে ক্যাটাগরি -১ এ প্রথম পুরস্কার বিজয়ী হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিত্রিকা বড়াল, দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী হয়েছেন উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইছা ইসলাম জেছি ও তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌভিক সাহা।

ক্যাটাগরি-২ এ প্রথম পুরস্কার বিজয়ী হয়েছে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুপ্রভা সাহা, দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ ঢাকার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ইমরুল কায়েস রাফসান ও তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদিদ।

বিশেষ ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ভিশন গ্লোবাল স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মায়াস রাসদান এজাজ।

পড়ুন: নির্বাচনে প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিতে পারবে না পুলিশ

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন