বছর ১১ আগের কথা। এভাবে কেউ কখনও স্বীকার করেননি। সেদিন অ্যাডিলেডে বাংলাদেশের কাছে হেরে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড। সেদিন প্রবল সমালোচিত হয়েছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান ও কোচ পিচার মুরস। সেদিনের সেই হারের পরেই ইংল্যান্ডের ওয়ানডে দল বদলে যায়!
‘মনে আছে (২০১৫ সালে বাংলাদেশের কাছে হেরে বাদ পড়া)। একজন খেলোয়াড় হিসেবে খুব সম্ভবত এটিই সবচেয়ে বাজে অনুভূতি ছিল। আমরা বাংলাদেশের কাছে হেরেছি বলে নয়। বাংলাদেশের তখন ভালো খেলোয়াড় ছিল। বরং আমরা যেভাবে খেলেছিলাম, সেটি নিয়ে হতাশ ছিলাম। একটা দিক দিয়ে ওই ম্যাচটা হেরে যাওয়া আমাদের জন্য ভালোই ছিল। কারণ আমাদের মানসিকতা পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল। সবকিছুই পরিবর্তন হয়েছিল। ওইটা আমাদের ভিন্ন একটা জায়গায় নিয়ে গেছে। আমরা যে ২০১৯ সালে বিশ্বকাপে জিতেছি, এটি তাঁর অন্যতম একটা কারণ।’ গতকাল সিলেটে গ্রুপ ইন্টারভিউয়ের অনেক প্রশ্নের ভিড়ে বিপিএল খেলতে আসা ইংলিশ অলরাউন্ডার মইন আলির সরল স্বীকারোক্তি এটি।সেদিন অ্যাডিলেডে ওপেন করতে নেমেছিলেন মইন। ১৯ রান করে রানআউট হয়েছিলেন। বাংলাদেশের দেওয়া ২৭৬ রানের লক্ষ্যে নেমে ইংল্যান্ড অলআউট হয়ে গিয়েছিল ২৬০ রানে। সেই দলের অনেকের কথাই মনে আছে মইনের। বিশেষ করে, সাকিব ও তামিমের কথা এদিন স্মরণ করেন তিনি। তাঁর উপলব্ধি আগের মতো বিশ্বমানের ক্রিকেটার নেই এখন বাংলাদেশ দলে। ‘আমার মনে হয় আগে বাংলাদেশের দুই-তিনজন বিশ্বমানের ক্রিকেটার ছিল। সাকিব, তামিম–বড় মাপের ক্রিকেটার ছিলেন। তারা লড়াকু ছিলেন। বাংলাদেশ ভাগ্যবান যে তাদের মতো দুজন ক্রিকেটার বছরের পর বছর পেয়েছে। বাংলাদেশের এখনও অনেক ভালো ক্রিকেটার আছে। কিন্তু সাকিব-তামিম মানের নেই। আমার মনে হয় এটাই বাংলাদেশের সমস্যা। একটা পর্যায় পর্যন্ত তাদের ভালো ক্রিকেটার আছে। কিন্তু তাদের এখন বিশ্বমানের ক্রিকেটার নেই। আমি জানি ফিজ (মুস্তাফিজ) বিশ্বমানের কিন্তু সে ওই সময়ও খেলত। দলে আপনার এমন ক্যারেক্টার ও লড়াকু মানসিকতার খেলোয়াড় প্রয়োজন। সত্যি বলতে, বাংলাদেশ সেটারই অভাববোধ করছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতি হয়েছে কিন্তু ঠিক সেই অর্থে উন্নতি হয়নি; বিশেষ করে মানসিক দিক থেকে।’
মইন আলি বিপিএলে নতুন নয়, এর আগেও কুমিল্লার হয়ে খেলে গেছেন। তবে এবারই প্রথম শ্বশুরবাড়ির হয়ে মাঠে নেমেছেন। মানে তাঁর স্ত্রী যে সিলেটের মেয়ে, সেটি অনেকেরই জানা। ‘দুলাভাই, জামাই–এগুলোর মানে কী, সেটি সম্পর্কে আমি জানি। আমি সারাজীবন বাংলাদেশিদের সঙ্গে বেড়ে উঠেছি। তারা কেউ হয়তো আমার বন্ধু আবার কেউ প্রতিবেশী। এগুলো আমি আগেই রপ্ত করেছি। সিলেটে খেলা এবং সিলেটের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা সবসময়ই ভালো লাগে। আমার মনে হয়, এখানকার সঙ্গে আমার ভালো একটি বন্ধন আছে। এটি সবসময়ই উপভোগ্য।’
আপন মানুষ বলেই বিপিএল সম্পর্কে নিজের কিছু উপলব্ধি তুলে ধরেন মইন। ‘বিপিএল এখন অন্যান্য লিগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হচ্ছে। এটি এক নম্বর কারণ। এই মুহূর্তে সাউথ আফ্রিকার লিগ চলছে, বিগ ব্যাশ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ম্যাচ আছে, বিশ্বকাপও খুব কাছে। তাই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলার জন্য এটা কঠিন সময়। এমনিতেও বাংলাদেশ একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামনে হয়তো নির্বাচন হবে। এখানে কী হচ্ছে, সেটি নিয়ে সবার খানিকটা অনিশ্চয়তা আছে। পরের মৌসুমে ইনশাআল্লাহ পরিস্থিতি ভালো হবে। এটি অনেকটা রিসেট দেওয়া বা নতুন করে শুরু করার মতো। উদাহরণ হিসেবে দলগুলো পরিবর্তন হচ্ছে। এখন কারা মালিক, সেটি অনেকেই নিশ্চিত নয়। এগুলো সবসময়ই পরিবর্তন হচ্ছে। এটিকে আবার স্যাটল করতে হবে। বাংলাদেশের জন্য বিপিএলকে একটু স্যাটল করতে হবে।’
পড়ুন: বোর্ড পরিচালক নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে বিসিবি
দেখুন: ‘নিপাহ ভাইরাসে এবার আক্রান্ত ১০ জনের ৭ জনই মা*রা গেছেন’ |
ইম/


