যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে স্বস্তির সংবাদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিতে পারে। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতে এই ঘোষণাটি আসতে পারে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্য স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠক থেকে এই বার্তা পাওয়া গেছে। তবে বাড়তি শুল্ক কতটা কমতে পারে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি।
ডব্লিউইএফ সম্মেলনে অংশগ্রহণ সম্পর্কিত এক ব্রিফিংয়ে গতকাল মঙ্গলবার এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত। রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এই আয়োজন করা হয়। ব্রিফিংয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে একটি মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার বিষয়ে অগ্রগতি ও স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের পর জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা অব্যাহত থাকার অগ্রগতির বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
মার্কিন পাল্টা শুল্ক প্রসঙ্গে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশের ওপর থেকে শুল্ক কমানোর বিষয়ে আন্তরিক এবং শিগগির একটি ঘোষণা আশা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান ২০ শতাংশ শুল্ক থেকে কত পরিমাণ কমানো হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই বাংলাদেশের পণ্যে প্রথমে আরোপিত ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে শুল্ক নামিয়ে আনা হয়।
নতুন করে আবার শুল্ক কমানোর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কমুক্ত নীতির অনেক উপাদান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের ওপর শুল্কবাধা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশে ৬০ দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশসহ বিভিন্ন হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন বাংলাদেশের পণ্যে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়, যা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ৯ এপ্রিল। কার্যকরের দিন তিন মাসের জন্য দেশভিত্তিক বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা স্থগিত করা হয়। তিন মাসের এ শুল্ক বিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে গত ৯ জুলাই বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের জন্য নতুন করে শুল্কহার পুনর্নির্ধারণ করেন ট্রাম্প। তখন বাংলাদেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক ২ শতাংশ কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। ১ আগস্ট থেকে এই হার কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনায় ১ আগস্ট বাংলাদেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়, যা ওই দিন থেকেই কার্যকর হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যে চূড়ান্ত শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ।
শুল্কের প্রভাবে ঠিক তখন থেকেই হঠাৎ রপ্তানিতে ছন্দপতন ঘটে। ব্র্যান্ড-ক্রেতারা রপ্তানি আদেশ কমিয়ে দেয়। চলমান রপ্তানি আদেশও বাতিল কিংবা স্থগিত হয়। রাতারাতি কমে যায় রপ্তানি আয়। এছাড়া প্রতিযোগী চীন ও ভারতের ওপর বেশি শুল্কের কারণে দেশ দুটি ইইউতে আগ্রাসী বাণিজ্য শুরু করে। এ কারণে বাংলাদেশের সার্বিক রপ্তানি কমে যায়।
বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্ক সম্পর্কে লুৎফে বলেন, ডব্লিউইএফ সম্মেলনে সম্ভাব্য এফটিএ নিয়ে ইইউ কমিশনার রোক্সানা মিনজাতু ও জোজেফ সিকেলার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ ইইউর সঙ্গে এফটিএ করতে চায় এবং তারা আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে তাদের এ ধরনের প্রক্রিয়া ধীর। ইইউ বর্তমানে ভারতের সঙ্গে এফটিএ করার চেষ্টা করছে। ভিয়েতনাম আগেই করেছে, যা বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী সরকারের জন্য বিস্তারিত নোট রেখে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
ডব্লিউটিও মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে লুৎফে বলেন, ভবিষ্যৎ বাণিজ্য নীতির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে ডব্লিউটিওপ্রধান বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে বহুপক্ষীয় বাণিজ্য নির্ভরতার বাইরে চলে যেতে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির ওপর আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দেশটির বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।
পড়ুন: জাতীয় নির্বাচনের সব তথ্য মিলবে টিকটকের অ্যাপে
দেখুন: টেকনাফে রোহিঙ্গাদের স*ন্ত্রাসে চরম আতঙ্কে স্থানীয়রা
ইম/


