“বাংলাদেশ ছিল ভারতের সাবলেট কলোনি” বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাদিক কায়েম বলেন, পুরো বাংলাদেশ ছিল ভারতের সাবলেট কলোনি। ভারতের প্রেসক্রিপশনে সবকিছু নির্ধারিত হতো। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপিড়ন ও সাংস্কৃতির গোলামীর মাধ্যমে আমাদেরকে যেতে হয়েছিল। সেই সময়ে শহীদ আবরার সকল শোষণ, আগ্রাসন, আধিপত্য ও ছাত্রলীগের নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন, কথা বলেছিলেন, প্রতিবাদ করেছিলেন।
আবরারের দেখানো পথেই জুলাই বিপ্লব হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আবরার বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। আধিপত্যের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে খুন করে ছাত্রলীগ।
ডাকসুর এই ভিপি বলেন, এক বছর পেরিয়ে গেলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেভাবে জুলাইয়ের আকাঙ্খাকে ধারণ করার দরকার ছিল সেভাবে ধারণ করছে না। আমরা অনুরোধ করবো শহীদরা যে জন্য জীবন দিয়েছে সেই আকাঙ্খাকে যেন তারা ধারণ করে। যদি না হয় তবে ফ্যাসিবাদি হাসিনার যে পরিণতি হয়েছে তার চাইতেও খারাপ পরিণতি তাদের হবে।
সাদিক কায়েম বলেন, আমরা অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারকে বলেছি, প্রতি বছর ৭ অক্টোবরকে যেন আধিপত্যবাদ বিরোধী অথবা আগ্রাসন বিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ডাকসুর পক্ষ থেকে দিনটিকে আগ্রাসন বিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
এ সময় আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ, স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
পড়ুন : কুষ্টিয়ায় প্রতিমায় ’দাড়ি-গোঁফ ’ নিয়ে বিতর্ক, ডিসি বললেন অপপ্রচার


