০৯/০২/২০২৬, ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ
17 C
Dhaka
০৯/০২/২০২৬, ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারের সংশোধন আপাতত নয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে আইন সংশোধনের প্রস্তাব সংশোধনে লিখিতভাবে অপারগতার কথা জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ফলে গভর্নরকে মন্ত্রী পদমর্যাদা, জাতীয় সংসদের কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়বদ্ধতা, আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা আপাতত হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার-১৯৭২ নামে আইনটি সংশোধনের প্রস্তাবটি বেশ আগেই অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে অর্থ উপদেষ্টা গভর্নরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, এরকম মৌলিক আইন সংশোধন করা এই সরকারের জন্য বাস্তবসম্মত হবে না। সংশোধনের উদ্যোগ পরবর্তী সরকারের নেওয়া অধিকতর যুক্তিযুক্ত হবে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন জরুরি। বর্তমানে গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতা অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে। আবার পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। যে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার-১৯৭২ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আইএমএফের কারিগরি সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি টিম খসড়া প্রস্তুত করে। পরবর্তী সময়ে খসড়ার ওপর কামাল হোসেন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের আইনি মতামত নেওয়া হয়। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আলোচনার জন্য গত বছরের ১৩ আগস্ট একটি বিশেষ সভা ডাকা হয়। সভার কিছু পর্যবেক্ষণ সংযোজন করে ২৭ আগস্ট আরেকটি পর্ষদ সভা করা হয়। এরপর গত বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। গত চার মাস ধরে প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে।
জানা গেছে, শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে কোনো আমলা না রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তা সংশোধন করে পর্ষদে সরকারের একজন প্রতিনিধি, ৬ জন স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞ, গভর্নর ও একজন ডেপুটি গভর্নরের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে গভর্নর সম্প্রতি অর্থ উপদেষ্টা বরাবর একটি চিঠি দেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ উপদেষ্টা চিঠি দিয়ে স্পষ্ট করেছেন, এই সরকারের সময়ে অধ্যাদেশ জারি বাস্তবসম্মত হবে না। 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সমকালকে বলেন, এরকম চিঠি এখনও তাঁর হাতে আসেনি। তবে এই সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনী না হওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেন হলো না তা বোধগম্য নয়। আর্থিক খাতের জন্য এটি খুবই দরকার। পরবর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধনী প্রস্তাব কার্যকরের চেষ্টা করবেন তিনি। 

অর্থ উপদেষ্টার চিঠিতে যা আছে 
গত বৃহস্পতিবার গভর্নরকে দেওয়া চিঠিতে অর্থ উপদেষ্টা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও সুশাসন কাঠামো আরও জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ সংশোধন বিষয়ে আপনার সাম্প্রতিক পত্রের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা এবং এর নীতিগত স্বাধীনতা সুসংহত করার লক্ষ্যে আপনার নিরন্তর প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।’

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশের সংশোধনীর বিভিন্ন দিক বিশেষ করে শীর্ষ পদগুলোত নিয়োগ ও অপসারণ, গভর্নরের পদমর্যাদা বৃদ্ধি, বোর্ড কাঠামোর পরিবর্তন ও প্রজাতন্ত্রের আর্থিক দায় সৃষ্টির স্বাধীনতা, স্বার্থের সংঘাত প্রতিরোধসংক্রান্ত বিষয়গুলো আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ যেহেতু দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থার একটি মৌলিক আইন, সেহেতু এ আইনে কোনো সংশোধন আনার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলোর যৌক্তিকতা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ জন্য এগুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা করা সমীচীন হবে।’

অর্থ উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, ‘আমার মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশের মতো একটি মৌলিক আইনে ব্যাপক সংশোধনী আনয়ন বাস্তবসম্মত হবে না। পরবর্তী সরকার দায়িত্বভার গ্রহণের পর ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এ আদেশটি পর্যালোচনা ও সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত হবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন ছাড়াও ব্যাংক খাত সংস্কারের আরও কয়েকটি আইন সংশোধনীর প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। এক্ষেত্রে ব্যাংকের পর্ষদে পরিবারতন্ত্র ঠেকাতে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন, খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন আইন, খেলাপি ঋণ আদায় জোরদারে অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধন এবং অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধন। তবে একটিও অধ্যাদেশ আকারে জারি হয়নি। অবশ্য আমানত বীমা আইন সংশোধন করে
ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বীমার আওতায় আনা হয়েছে। আর আমানতকারীর বীমা কভারেজ এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। আর ৬টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের প্রক্রিয়া শেষ ধাপে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ মত
জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন সমকালকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত হয়েছে বেশ আগেই। এ পর্যায়ে যা আটকানোর কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা নেই। তিনি মনে করেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সম্ভবত সংশোধন চাইছে না। কেননা, এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি তিন থেকে কমিয়ে একজনে নামাতে হবে। এখানে একটা ‘পাওয়ার গেম’ আছে। আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্বের বিষয় রয়েছে। এ কারণে আটকে গেছে। ফাইলটা লাল ফিতার গিট্টুতে পড়েছে। লাল ফিতার গিট্টু খোলা অনেক কঠিন। 
ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, গত ডিসেম্বরের মধ্যে এই অধ্যাদেশ জারির কথা ছিল। পরবর্তী সরকার করবে বলে জানানো সংশোধনটি আটকে দেওয়ার একটা কৌশল মাত্র। এটি করা যেত না, তা নয়। আমলারা চাচ্ছে না। সে কারণে অজুহাত দাঁড় করানো হয়েছে যে, পরবর্তী সরকার করবে। এর যৌক্তিক কোনো ভিত্তি নেই। 

পড়ুন:মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আমাদের ভীত করে না, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাদ দেব না’

দেখুন:সরকারিভাবে মালয়েশিয়া গেলেন ৩০ কর্মী, চাহিদা দশ হাজার 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন