ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পটুয়াখালী-২ আসনে মনোনীত প্রার্থী ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম মাসুদ এর পক্ষে বাউফলে নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকাল ৪ টায় বাউফল উপজেলার পাবলিক ফিল্ডে এই নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বাউফল থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাও: মো: ইসহাক এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক ও প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিঞ্চালনের মুখ্য সমন্ময়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব শামীম সাঈদী।
নির্বাচনী এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘‘১০ দলীয় ঐক্য গঠিত হয়েছে একক নেতার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, কোন একটি দলের স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য নয়, ১০টি দলের ভাগ্য গড়বার জন্য নয়, গঠিত হয়েছে বাংলার মানুষের ভাগ্য গড়বার জন্য, ১০ দল নিজের দলের প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন করছে না, নির্বাচন করছে বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘ভিনদেশী শক্তি বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তি যুগের পর যুগ বছরের পর বছর বাংলার মানুষের মাথার ওপর তাদের দোসর এবং সেবা দাসদেরকে বসিয়ে বাংলাদেশ থেকে তারা রক্ত চুষে খেয়েছে, লুটেপুটে খেয়েছে, এক দোসরের দিন শেষ হলে নতুন আরেক দোসরকে বসানোর পায় তারা চালিয়েছে। এবার বাংলার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, আর কোন দোসরের চেহারা তারা দেখতে চায় না, বাংলার মানুষ এবার নিজেদের ভাগ্য নিজেরা গড়তে চায়। তাই তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে, যা তা বলা শুরু করেছে। এটাই প্রমাণ করে যে তারা তাদের পরাজয়ের পূর্বাভাস দেখতে পাচ্ছে।’’
মামুনুল হক বলেন, ‘‘আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলি, ইনসাফের যে বাংলাদেশ গর্বার জন্য ওসমান হাদীরা শাহাদাত বরণ করেছে, আমাদের ভাইয়েরা যে ইনসাফের জন্য রক্ত দিয়েছে, ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে ইনসাফের বাংলাদেশ আমরা গড়েই ছাড়বো। ইনশাল্লাহ।’’
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘‘বাউফলবাসী সৌভাগ্যবান, বাউফল বাসী তাদের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ সংসদ সদস্য পেতে যাচ্ছে। এই মাসুদ ভাই শুধু বাউফলের সম্পদ নয় তিনি সারা বাংলাদেশের সম্পদ, তিনি হলেন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াকু সৈনিক, হাদী ভাইয়ের উত্তরসূরী।’’
তিনি বাউফলের ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোন চাঁদাবাজ, ‘‘টেন্ডারবাজের কাছে ভোটকেন্দ্র ছেড়ে দেয়া যাবে না। আপনাদের যারা ভয় দেখায় তারা আসলে ভয় পেয়ে গেছে এ কারণে ভয় দেখাতে এসেছে। আপনার সকালেই ভোট কেন্দ্রে চলে যাবেন।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘অতীতে যেটা হতো- সংসদে গিয়ে মানুষ চুরি করতো, সংসদ সদস্যরা সংসদে যাওয়ার পরে চোর হতো, টেন্ডারবাজ হতো, লাইসেন্স নিজের নামে নিয়ে চুরি করতো। এইবার দেখালাম একটা দল ৪৫ জন চোরকে আবার সংসদে ডোকাচ্ছে, সংসদে যাওয়ার আগেই আবার ডাকাত হয়ে যাচ্ছে। আবার ইলেকশন কমিশন হেঁসে হেঁসে বলছে- মনে কষ্ট নিয়ে তাদেরকে যেতে দিলাম।’’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘‘আমাদের জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের রক্তের ওপরে দাঁড়িয়ে, যারা পঙ্গু হয়েছে, যারা আহত হয়েছে তাদের ওপরে দাঁড়িয়ে ইলেকশন কমিশন আপনাদেরকে ডাকাত এবং চোরদের সেইভ এক্সিট দিয়ে সংসদে পাঠাতে আপনাদেরকে ইলেকশন কমিশনে বসানো হয়নাই।’’
বাউফলের ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পটুয়াখালী-২ আসনের মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘‘আমি ঘোষণা দিচ্ছি; এমপি হলে আমি কোন সরকারি সুবিধা নিবো না, প্লট, ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নিবো না। আমার সরকারি সুযোগ সুবিধা যা আছে বাউফল বাসীর কাজে লাগাবো। তিনি আরো বলেন ৬০ দিনের মধ্যে বাউফলে মাদক ও ৯০ দিনের মধ্যে দুর্নীতির কবর রচনা করা হবে।’’
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ আরও বলেন, ‘‘বাউফলের প্রধান সড়ক দুই লাইন বা চার লাইন করার প্রয়োজন হয় তা করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। চরের জমি যার, ফসল তার এই ইনসাফের লড়াই চলবে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলেও না গেলেও বাউফলের নাগরিক হিসেবে বগা সেতু বাস্তবায়ন করা হবে।’’
এছাড়াও নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের পটুয়াখালী জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা আইউব বিন মুছা, পটুয়াখালী-১ আসনে ১০ দলীয় ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মেজর (অবঃ) আব্দুল ওহাব মিনার, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ডিআইজি মো: আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
পড়ুন : বাউফলে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ


