বাউল আবুল সরকারের মুক্তি, মাজার–দরগাহ ভাঙচুর এবং বাউলশিল্পীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের ডাকা মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে খুলনায়। শিববাড়ী মোড়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে হামলাকারীরা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে ও আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে সংগঠনের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন। ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকেলে। অপরদিকে এ হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় সংবাদ সম্মেলন করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতৃবৃন্দ।
গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের নেতা–কর্মীরা জানান, দেশব্যাপী ঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাঁরা খুলনায় মানববন্ধনের আয়োজন করেছিলেন। একই সময়ে ‘ধর্ম অবমাননা’র অভিযোগ তুলে ‘ছাত্র–জনতা’ ব্যানারে আরেক পক্ষ একই স্থানে বিক্ষোভের ঘোষণা দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বুধবারের হামলার ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ছাত্র ইউনিয়নের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সজীব খান অভিযোগ করে বলেন, ‘ বুধবার বেলা তিনটার দিকে আমরা শিববাড়ীতে অবস্থান নিই। পুলিশ থাকা সত্ত্বেও বিকেল পাঁচটায় পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চলে। “ছাত্র–জনতা” ব্যানারে যারা এসেছিল, তারা আপ বাংলাদেশ ও শিবিরের কর্মী।’
তিনি আরও বলেন, আমরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্যে গেলে সেখানে আমাদেরকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করতে বাধা প্রদান করে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ। পরে শহীদ হাদিস পার্কে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী খুলনা মহানগরের ইয়াসির হামিদ, এসভিপির মোহাম্মদ অনিক, মাহিন, অরিত্র রয় প্রমুখ।
হামলার ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বুধবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ছাত্রজোট মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিলে অপর পক্ষও সেখানে অবস্থান নেয়। বিকেল পাঁচটার দিকে ছাত্রজোটের কর্মীরা ব্যানার হাতে সড়কে নামতেই কিল–ঘুষি ও লাঠিসোটা নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তাঁদের ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে আগুন ধরানো হয়।
অন্যদিকে আপ বাংলাদেশের খুলনা মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়জুল্লাহ শাকিল দাবি করেন, ‘ছাত্রজোটের সদস্যরাই আগে আমাদের একজন কর্মীকে মারধর করে। পরে আমরা এগিয়ে যাই।’
খুলনা মহানগর পুলিশের সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, বামঘরানার ছাত্রদের মানববন্ধনে ‘ছাত্র ও সাধারণ জনতা’ মিলে হামলা করেছিল। কয়েকজন আহত হলেও কেউ গুরুতর নয়। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ব্যানার পোড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। উত্তেজনা এড়াতে আগেই পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পড়ুন : খুলনা-১ আসনে জামায়াতের হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী নতুন আলোচনায়


