১২/০২/২০২৬, ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ
17 C
Dhaka
১২/০২/২০২৬, ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

বাগেরহাটে সাংবাদিক হায়াত হত্যা : ৪৮ ঘণ্টা পর অবশেষে মামলা হয়েছে

“তুই কোন হাত দিয়ে লিখিস, সেই হাতটা একটু দেখা।” এই প্রশ্নের পরেই সাংবাদিক হায়াতের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একদল সন্ত্রাসী। ধারালো অস্ত্রের কোপে মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। প্রাণভিক্ষার আকুতি সত্ত্বেও থামেনি হত্যাকারীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হায়াত নিজ বাড়ির কাছেই সিদ্দিকের চায়ের দোকানের সামনে বসে চা পান করছিলেন। তখন তিনটি মোটরসাইকেলে করে ৬ থেকে ৭ জন সন্ত্রাসী এসে তাকে ঘিরে ধরে। এসময় সন্ত্রাসীদের একজন তাকে জিজ্ঞেস করে, “তুই কোন হাত দিয়ে লিখিস, সেই হাতটা একটু দেখা”—তারপরই শুরু হয় এলোপাতাড়ি কোপানো।

হায়াত দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও কোপের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপরে প্রায় পনের থেকে বিশ মিনিট ধরে ওই স্থানে অবস্থান করে সন্ত্রাসীরা। তখন ভয় আর আতঙ্কে আশপাশের কেউ এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি।

পরে সন্ত্রাসীরা চলে গেলে প্রায় আধা ঘণ্টা পর হায়াতের বন্ধু তাকে ভ্যানে করে হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সাংবাদিক হায়াত উদ্দিনের।

এই মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের ৪৮ ঘণ্টা পর অবশেষে মামলা হয়েছে বাগেরহাট সদর মডেল থানায়। রবিবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিহতের মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ-উল-হাসান বলেন, সাংবাদিক হায়াত হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তদন্তের স্বার্থে এখনই আসামিদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, নিহত এস. এম. হায়াত উদ্দিন স্থানীয় দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তার ওপর এই নৃশংস হামলায় সাংবাদিক সমাজে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বাগেরহাটে সন্ত্রাসীদের হামলায় সাংবাদিক নিহত

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন