বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চিংগড়িয়া এলাকায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে রাজিব শেখ( ২৮) নামে একজন নিহত ও একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বাড়িতে আগুন ও লুটপাট করা হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী হামলা – পাল্টা হামলার পর ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ আসলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলাধীন কলাতলা ইউনিয়নের সাঈদ বিশ্বাস ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের উপপরিদর্শক মঞ্জুরুল আলম শেখের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। গতকাল সন্ধ্যায় সাইদ বিশ্বাসের লোকজন মনজুরুল আলম শেখের লোকজনের উপর আক্রমণ করে। এসময় মনজুরুল শেখ’র পক্ষে থাকা রাজিব শেখ (২০, পিতা- ফারুক শেখ), মোঃ জাহিদ শেখ (২৮), মোঃ মোজাহিদ শেখ (৫০, উভয় পিতা- মোঃ যেহের আলী শেখ), মোঃ বাবর আলী শেখ (৫২, পিতা- মৃত আবু সরোয়ার শেখ), খলিল শেখ (২৩), পিতা- মোঃ এমদাদুল শেখ), মোঃ বোবা শেখ (৪৫), পিতা- মৃত- জিয়া শেখ, সিরাজ শেখ, পিতা- ইদ্রিস শেখ, সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন গুরুত্বর আহত হয়েছে। এ সকল ব্যক্তিদের বাড়িতে ভাঙচুর- লুটপাট এবং ৮-১০ টি বাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে সাঈদ বিশ্বাসের লোকজন। আগুন লাগা বাড়িতে চিতলমারী থানা পুলিশ, চিতলমারী অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের সেনা সদস্যরা, চিতলমারী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গুরুত্বর আহত ব্যক্তি রাজিব শেখ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছে।
ওই এলাকার মোহাম্মদ রফিক নামে এক ব্যক্তি নাগরিক টেলিভিশনকে বলেন, বিশ্বাস বাড়ির সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের শেখ বাড়ির প্রায় ৩০টি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। ঘরে থাকা সোনাদানা, নগদ টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এতে আমাদের পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মোঃ রিপন শেখ বলেন, আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। আমাদের বংশের ২০ থেকে ৩০টি বাড়িতে লুটপাট চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
বিশেষ সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনার সূত্রপাত হয় প্রায় ৩ মাস পূর্বে। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি সকাল ৯টায় সাঈদ বিশ্বাসের বংশের একজন নিজাম উদ্দিন বিশ্বাস একটি ইজিবাইকে চড়ে তার নিজ বাড়ীতে ফেরার পথে চিংগুড়ী লিচুতলা নামক স্থানে তার প্রতিবেশি মোঃ মঞ্জুরুল আলম শেখ এর নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন তার উপর হামলা করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবার ঢাকা ন্যাশনাল লাইফ হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে গত ২৮ জানুয়ারিতে অসুস্থাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।
জানুয়ারিতে এই ঘটনার জের ধরে গতকালের হত্যা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে চিতলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে এবং এ ঘটনায় রাজীব নামে একজন নিহত হয়েছেন।


