বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন অক্ষুণ্ন রাখার দাবিতে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে শুরু হওয়া টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিনেই পুরো জেলা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিএনপি-জামায়াতসহ সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা এই কর্মসূচিতে দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও স্থবির হয়ে যায়। সকাল থেকে বাগেরহাট হয়ে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও দেশের অন্যান্য রুটে সব ধরনের দূরপাল্লা ও আন্তজেলা পরিবহন বন্ধ থাকে। ফলে জেলার সাথে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এদিন শহরের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি সরকারি অফিসের কার্যক্রমও বন্ধ ছিল। হরতালকারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও নির্বাচন অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় কর্মকর্তারা অফিসে প্রবেশ করতে পারেননি। মোরেলগঞ্জের পানগুছি নদী ও মোংলা নদীতে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। জেলার বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে, গাছ কেটে ও জাল টানিয়ে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। যদিও বড় কোনো সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন ছিল।
হরতালের কারণে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দূরপাল্লার যাত্রীরা বাস টার্মিনালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো পরিবহন পাননি। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ওষুধের দোকান ছাড়া প্রায় সব দোকানপাট বন্ধ থাকায় মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
পিরোজপুর থেকে খুলনায় চিকিৎসার জন্য রওনা হওয়া সালেহা আক্তার বলেন, “সকাল থেকে রাস্তায় আছি, কিন্তু কোনো বাস পাচ্ছি না। রিকশা বা ভ্যানে এত দূর যাওয়া সম্ভব নয়। মেয়েকে হাসপাতালে নিতে পারছি না, খুব অসহায় লাগছে।”
মোংলার ব্যবসায়ী আবীদ হোসেন জানান, “বন্দরে মাল আটকে আছে, কিন্তু পরিবহন বন্ধ থাকায় সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচন কমিশন একটি আসন কমিয়ে জেলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাহ্য করেছে। বাগেরহাটের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, মোংলা বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও দুটি বিশ্ব ঐতিহ্যের কারণে চারটি আসন বহাল রাখা অত্যন্ত জরুরি।”
জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, “এটি কোনো দলের আন্দোলন নয়, এটি জনগণের স্বার্থের প্রশ্ন। নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হবে, নইলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুলাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসির বিশেষ কারিগরি কমিটি খসড়া প্রস্তাবে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি কমিয়ে তিনটি রাখার প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গেজেটে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হলে জেলার রাজনৈতিক দলসহ সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনে নেমে পড়ে।
শেখ আহমেদ তারিক
পড়ুন: কুষ্টিয়ায় আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২
দেখুন: টানা বর্ষণে ফের তলিয়েছে নোয়াখালী শহর
ইম/


